ব্রেকিং নিউজ

আন্দোলনে সিটি নির্বাচন থেরাপি

image_11723দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে বা এপ্রিলের শুরুতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চলতি মাসেই ঢাকা ও এপ্রিলের মাঝামাঝিতে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এই নির্বাচনকে চলমান আন্দোলন দমানোর কৌশল বলে মনে করছে। অনেকে বলছেন, এটি ‘আন্দোলনে সিটি নির্বাচন থেরাপি’। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়ায় গতকাল থেকেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কয়েক দফা এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন। এ ছাড়া সকালেই ভোটার তালিকা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটির ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিকালে হঠাৎ করে শিক্ষা সচিব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছু কথাও বলেন। চলমান এসএসসি পরীক্ষা ও এপ্রিলের এইচএসসি পরীক্ষার মাঝামাঝিতে সিটি নির্বাচন করার কথাও শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে হবে। পেছানো হবে না। পরীক্ষাও চলবে, ভোটও হতে পারে। এ নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। এদিকে ২৮ জানুয়ারি ডিসিসির সীমানা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বিকাল পর্যন্ত ডিসিসির সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেট ইসির কাছে আসেনি। কিন্তু ইসি সচিবালয় থেকে টেলিফোনে বিজি প্রেসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আজ গেজেট ইসিতে আসার কথা রয়েছে।অন্যদিকে ডিসিসি নির্বাচনের বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, সীমানা গেজেট এখনো হাতে পাইনি। পেলেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হবে। তবে তিনি বলেন, জুনে রমজান শুরু হচ্ছে, এক্ষেত্রে রমজানের আগেই চট্টগ্রাম নির্বাচনও করতে হবে। তবে চলমান এসএসসি পরীক্ষা ও এপ্রিলের এইচএসসি পরীক্ষার মাঝামাঝিতে ডিসিসি নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধে পরীক্ষা তো পিছিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়? তবে সময়মতো সীমানার কাজ শেষ করতে পারলে এপ্রিলেও নির্বাচন করা সম্ভব।প্রস্তুত ইসি : ডিসিসি নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, গেজেট পাইনি। গেজেট পেলেই নির্বাচনের বিষয়ে বলা যাবে। এদিকে সীমানা জটিলতা বাদ দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই ভাগে ভোট আয়োজনের ‘লজিস্টিক’ প্রস্তুতি সব সময়ই নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলে জানান কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ভোটের জন্য অর্থ বরাদ্দ ইতিমধ্যে চাওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকাও প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু সীমানা জটিলতা শেষ করে গেজেট পাওয়ার ওপর পরবর্তী করণীয় নির্ভর করছে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়টি আমিও পত্রিকায় দেখলাম। আমার জানা মতে, কোনো গেজেট ইসিতে পৌঁছেনি, আমরা হাতে পাইনি। সীমানা গেজেট হাতে পেলে চলমান এসএসসি ও আসন্ন এইচএসসি সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করে কমিশন ভোটের সময় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে।সর্বশেষ ২০০২ সালের এপ্রিলে ভোটের পর ২০০৭ সালের মে মাসে অবিভক্ত ডিসিসির নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। এর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় দুবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।এর পর ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ ও ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর নামে দুই ভাগ হয় ডিসিসি। দুই ভাগ করার পর অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে চলছে ডিসিসি, যদিও স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের ইসি তফসিল ঘোষণা করলেও আইনি জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ২০১৩ সালের মে মাসে নির্বাচনের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে নতুন করে তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একটি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় সীমানা জটিলতায় নির্বাচন আবারও ঝুলে যায়। তেজগাঁও সার্কেলভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি পাড়া-মহল্লা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করায় সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ সংক্রান্ত গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছে ইসি।চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন : জুন মাসের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। গতকাল শেরেবাংলা নগরের ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। সচিব বলেন, মেয়াদ শেষের আগে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন আয়োজনে কোনো বাধা নেই। মধ্য জুন থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জুনের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট করা হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ও রমজানের সময়সীমা রেখে জুনের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে।সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Comments

comments