ব্রেকিং নিউজ

পোশাকশিল্প মালিকদের সকাল-সন্ধ্যা অনশন কাল

bgmea-logoদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ হরতাল-অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে শনিবার সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ বিজিএমইএ-এর সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করবেন পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে হরতাল-অবরোধ বন্ধের দাবিতে শিগগিরই হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হবে বিজিএমইএ। যেন আইন করে হরতাল-অবরোধ বন্ধ করা যায়। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান বিজিএমইএ-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

চলমান রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এর বিকল্প কোনও পথ নেই। সরকারদলীয় জোট ও বিএনপিসহ অন্যদের একত্রে বসাতে হবে। সংলাপের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের না নিয়ে অরাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি কমিটি করারও পরামর্শ দেন তারা। এর প্রাথমিক কর্মসূচি হিসেবে কাল শনিবার রাস্তায় অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ'-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিজিএমইএ ভবনের সামনে গার্মেন্টস মালিকরা অনশন করবে। এর আগেই পোশাক শিল্পের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি পোশাক খাতের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করবে।

বিজিএমইএ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গার্মেন্টস শিল্পে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যলিংকেজ শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ শিল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। রাজনৈতিক সহিংসতায় এত টাকার বিনিয়োগ এখন অনেকটাই ধ্বংসের দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রমতে, রাজনৈতিক অস্থিরতায় জানুয়ারি মাসে পোশাক শিল্পে সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে শিপমেন্ট বিলম্ব করায় ডিসকাউন্ট দিতে হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। একই সময় অর্ডার বাতিল হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই খাতে প্রবৃদ্ধ ছিল ১৬ দশমিক ৭৭, যা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৮। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ বছরও প্রবৃদ্ধি কমবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) মতে, একদিনের অবরোধ ও হরতালে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় ৩৭ দিনে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৫ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এ পরিস্থিতিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া তো দূরের কথা এ শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করে ইএবি।

Comments

comments