ব্রেকিং নিউজ

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে তোপের মুখে জিটিসিএল

gas-1416136842প্রতিবেদকঃ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে এবার তোপের মুখে পড়ছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল)। অযৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি গ্যাসের দাম প্রতি ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে।

কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা হিসেব করে দেখেছেন দাম বাড়ানোর পক্ষে জিটিসিএল যে যুক্তি দেখিয়েছে সেটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভাঁওতাবাজি।

বিইআরসির মতে, জিটিসিএলের প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন মাশুল ১৩ পয়সা হলেই কোম্পানি লাভজনক হয়। সেখানে বর্তমানে নেয়া হচ্ছে ৩২ পয়সা। এরপরও মাশুল আরও ১৫ পয়সা বাড়ানোর আবদার করে।

যুক্তি হিসাবে দেখায় বর্তমানে ৩২ পয়সা করে নেয়ায় তারা লোকসানে আছে। তাদের লোকসান কমাতে হলে সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি আরও ১৫ পয়সা বাড়াতে হবে। এমনি অযৌক্তিক দাবি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গণশুনানিতে অংশ নেয়া প্রায় সব বক্তাদের তোপের মুখে পড়ে জিটিসিএল।

বক্তারা বলেছেন, মূলত লুটপাটের জন্যই তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। জিটিসিএল একটি লুটপাটকারী প্রতিষ্ঠান। এর আগেও তাদের লুটপাটের অনেক তথ্য বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে এ আবেদনের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিইআরসির টেকিনিক্যাল কমিটির হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরে কোম্পানিটি ৪২৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। এরপর দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই।

গণশুনানিতে কোম্পানিটির নানা অনিয়ম ও অপব্যয়ের কথা উঠেছে। লাভের টাকায় কোম্পানিটির ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ফিবছর বাড়ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এফডিআরের পরিমাণ ৯৪৪ কোটি টাকা। ২০১২-১৩-তে তা ছিল ৮১৮ কোটি টাকা। কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই প্রতিবছর বোনাস হিসেবে প্রায় চার লাখ টাকা নিচ্ছেন। এছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে কোম্পানিটি।

এ প্রসঙ্গে শুনানির সভাপতি বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান জিটিসিএলের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজের পকেটের টাকায় কখনো শেরাটন হোটেলে খেয়েছেন! খান-নি। তাহলে কোম্পানির এজিএম শেরাটনে করলেন কেন? ভোক্তার টাকায় উল্লাস করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে।

জিটিসিএল পরিচালক (অর্থ) শরিফুর রহমান জানান, প্রত্যেক বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য বোর্ড সদস্যদের ৬ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। শুনানিতে আরও উঠে আসে কোম্পানিটি বিইআরসির নির্দেশনাও মানছে না।

২০০৯ সালে কমিশন হুইলিং চার্জ ২৯ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও জিটিসিএল ২০১০ সাল থেকে ৩২ পয়সা করে পাচ্ছে। এ বিষয়ে কমিশন অবহিত নয়। জিটিসিএলকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেছে কমিশন। শুনানিতে ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ধারাবাহিকভাবে মুনাফা বাড়ছে। তাহলে কেন দাম বাড়াতে হবে।

এমন প্রশ্নের জবাবে জিটিসিএলের পক্ষ থেকে বলা হয়Ñ আগামীতে অনেক বিনিয়োগ দরকার হবে তাই এ অর্থের প্রয়োজন। গণশুনানিতে অংশ নেন বিইআরসির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, মাকসুদুল হক, রহমান মুরশেদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, গণসংহতির প্রধান সম্বয়ক জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

Comments

comments