ব্রেকিং নিউজ

ফের ধর্মান্তরকরণ কমসূচি বিজেপির: সর্বত্র নিন্দা ও উদ্বেগ

ab3f2b191414d4ec2b341fb91276322e_XLদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরকরণ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সমাজকর্মীরা এই ঘটনায় নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় বুধবার এই ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে খ্রিস্টান হওয়া প্রায় শতাধিক পুরুষ ও নারীকে এ দিন হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হয়। রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের অন্তর্গত খরমাডাঙ্গা আদিবাসী পাড়ায় বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় যজ্ঞকুণ্ড তৈরি করে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ করে পুজোপাঠ। এখানে আদবাসীদের শুদ্ধিকরণ করে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হয়। এরা কয়েকমাস আগে ধর্ম পরিবর্তন করে খ্রিস্টান হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সংযোগ প্রধান চুকড়া টুডুর দাবি, ‘আমরা ধর্মান্তরকরণ করিনি। আমাদের সমাজের কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অন্য ধর্মে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের আমরা শুদ্ধকরণ করে নিজেদের ধর্মে ফিরিয়ে আনালাম।’

এদিকে, বুধবারই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক সভায় বীরভূমের রামপুরহাট গান্ধী ময়দানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তরাষ্ট্রীয় কার্যকরী প্রেসিডেন্ট প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেন, ‘যেভাবে হিন্দুদের জনসংখ্যা কমছে, তাতে খুব শিগগিরি গ্রেটার বাংলায় পরিণত হবে পশ্চিমবঙ্গ। যেভাবে ঢাকা থেকে হিন্দুদের পালিয়ে আসতে হয়েছিল, সেই ভাবেই বাংলা থেকেও হিন্দুদের পালাতে হবে। এরজন্য রাজ্যসরকারকে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে বাংলাদেশী মুসলিমদের তাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’  

হিন্দুদের প্রতি তোগাড়িয়ার আবেদন, ‘বাংলাদেশী মুসলমানদের তাড়িয়ে দিন। ওদের ঢাকায় পার্সেল করে দিন। একজন বাংলাদেশী মুসলিমকেও ঘর ভাড়া দেবেন না।  চাকরি দেবেন না, কাজ দেবেন না, ওদের কাছ থেকে সবজি কিনবেন না, চুল কাটাবেন না, ওদের রিকশায় বসবেন না।’

ধর্মান্তরকরণের ঘটনায় বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষদের রাজ্য কার্যকরী প্রেসিডেন্ট হেরোদ মল্লিক বলেছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আরএসএস তাদের কর্মসূচি আরো জোরদার করেছে। ওরা সংখ্যালঘুদের মুছে ফেলতে চাইছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’

বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সাবেক অধ্যাপিকা মীরাতুন নাহার বলেন, ‘বিজেপি ও আরএসএস ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ধর্মান্তরকরণের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এটা ভাবা যায় না। রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর কী করছিল? প্রশাসন কেন আটকাতে পারল না?’   

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের মন্তব্য, ‘সংঘ পরিবারের এটাই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। অন্য রাজ্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে ধর্মান্তরকরণ আটকানোর চেষ্টা করছে, আর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘুমোচ্ছেন।’

ধর্মান্তরকরণের ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেনসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।   

রাজ্য সরকারের পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন বলেছেন,  ‘বীরভূমে বিশ্বহিন্দু পরিষদের শিবিরে আদিবাসীদের ধর্মান্তরিত করার ঘটনাটিকে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। জোর করে ধর্মান্তরকরণ প্রমাণিত হলে দোষীদের চরম শাস্তি দেয়া হবে।

Comments

comments