ব্রেকিং নিউজ

নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারে ব্যর্থ বাংলাদেশ: এইচঅারডব্লিউ

75951_HRW-300x195দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ হত্যা, গুম ও নির্বিচারে গ্রেফতারের মতো গুরুতর নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশ সরকার অাইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করতে সম্পূর্ণ ব্যার্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউয়র্কভিত্তিকমানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচঅারডব্লিউ)। ২০১৫ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই মন্তব্য করে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, '২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে বিরোধী দল যখনই অর্থনৈতিক অবরোধ অারোপ করে সহিংস ও নির্বিচার অাক্রমণে জড়িয়ে পড়ে তখনই সরকারি বাহিনী মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে।'

৬৫৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে এইচঅারডব্লিউ বিশ্বের ৯০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। এছাড়া প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহকেও গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিয়ানমার থেকে অাসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকার তাদের দেশে ফিরে যেতে 'ভয়ানক চাপ' প্রয়োগ করে যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রবেশাধিকারে অান্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলো এখনও সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

'নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত নয়'

প্রতিবেদনে অারও উল্লেখ করা হয়, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতা বা অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে এ ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো গত মে মাসে এক রাজনীতিককে (চাঞ্চল্যকর সাত খুন) হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর বেশ কিছু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে এইচঅারডব্লিউ-এর এশিয়া শাখার প্রধান ব্রাড অ্যাডামস বলেন, 'র‌্যাবের কিছু সদস্যকে গ্রেফতারের বিষয়টি একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সরকারকে অবশ্যই পরিবার বা রাজনৈতিক সংযোগের কথা মাথায় না রেখে বাছবিচার ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।'

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুশীল সমাজের ওপর বিধিনিষেধ বৃদ্ধির এক বছর পরে সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক চর্চা এবং নীতি সম্পর্কে একটি খসড়া বিল উত্থাপন করেছে। সেইসঙ্গে বিশেষ করে বিদেশি তহবিল সংগ্রহ কষ্টদায়ক করে তুলেছে। একইসঙ্গে সরকার একটি নতুন গণমাধ্যম নীতি প্রণয়ন করেছে যা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা অারোপ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর সরকার শ্রম অাইন সংশোধন করলেও শ্রমিকরা এখনও ইউনিয়নে যুক্ত হতে গেলে ভয়-ভীতির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।

Comments

comments