ব্রেকিং নিউজ

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধরাশায়ী শেয়ারবাজার

bazar-finalদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। জানুয়ারি মাসে বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখী থাকার কথা থাকলেও এবার ঘটেছে উল্টোটা। প্রায় দিনই কমছে মূল্য সূচক ও টাকার অংকে লেনদেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা সাইড লাইনে থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত (১১ কার্যদিবস) মূল্য সূচক বেড়েছিল ২৮৮ পয়েন্ট। দৈনিক লেনদেন ৩শ' কোটি থেকে ৭শ' কোটিতে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৬ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মূল্য সূচক কমেছে ১৮৬ পয়েন্ট। আর লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ৩শ' কোটির মধ্যে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হাউজে ‍উপস্থিত হয়ে লেনদেনে অংশ নিতে পারছেন না। আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ছাড়া পরবর্তী পরিস্থিতি চিন্তা করে অনেকে কম দরে হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন। এ সব কারণে মূলত বাজার ধরাশায়ী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪৭৮৩ পয়েন্টে। যা চলতি বছরের মধ্যে সূচকের সর্বোচ্চ পতন। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩০৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ২৪৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। লেনদেন হয়েছে ২৮১ কোটি ৯২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

মঙ্গলবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স অবস্থান করে ৪৮৫৬ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ২৪৭ কোটি ১৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫ হাজার টাকা বা ১৪.০৫ শতাংশ।

বুধবার ডিএসইর টপ-২০ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মোট ১৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫০.৯৮ শতাংশ।

এ দিন ডিএসইতে সবচেয়ে বেশী শেয়ার লেনদেন হয়েছে সিএ্যান্ডএ টেক্সটাইলের। দিনভর এ কোম্পানির ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৬০৮টি শেয়ার ৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮২ হাজার টাকায় লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫.০৯ শতাংশ।

এ ছাড়া লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ১৮ কোটি ৬২ লাখ, ন্যাশনাল ফিড মিলের ৮ কোটি ৫৭ লাখ, গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ৮৫ লাখ, এনভয় টেক্সটাইলের ৭ কোটি ৩১ লাখ, বেক্সিমকোর ৬ কোটি ৬২ লাখ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ৫ কোটি ৩৭ লাখ, অগ্নি সিস্টেমসের ৪ কোটি ৮৬ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। কারণ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। ফলে তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনাও করতে পারছে না। একই আশঙ্কায় বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরাও সাইড লাইনে রয়েছেন। যে কারণে লেনদেন সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।

দিনশেষে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক ১২২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮৮৮৩ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ১৯৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি কোম্পানির। লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের দিন এ সময়ে লেনদেন হয়েছিল ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে বুধবার সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

 

Comments

comments