ব্রেকিং নিউজ

মিউচুয়াল ফান্ডের মালিকানার অংশীদাররা অন্ধকারে

_thereport24দ্য বিডি এক্সপ্রেস : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে তা জানতে পারেন না বিনিয়োগকারীরা। শুধু সম্পদ মূল্যের ওপর নির্ভর করে ফান্ডের ইউনিট কেনেন তারা। ফান্ড ব্যবস্থাপকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তথ্য সরবরাহ করলেও মালিকানার অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগকারীরা থাকেন অন্ধকারে।

এ কারণে ফান্ড ব্যবস্থাপকদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের পর সবচেয়ে বেশী দুর্দশায় রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত।

ফান্ডগুলোর দুর্দশা লাঘবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তনের পাশাপাশি বোনাস ইউনিট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তারপরও তালিকাভুক্ত ৪০টি ফান্ডের মধ্যে সম্পদ মূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে ২১টি লোকসানে রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফান্ডগুলো কোন খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে তা জানার অধিকার রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

কারণ যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে সেটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে শুরু করে তাদের প্রোডাক্ট এবং বাজারে তার চাহিদার ওপর নির্ভর করে ফান্ডের লাভ লোকসানের অনুমান করতে পারেন তারা। ফলে কোম্পানি বা খাতটি যদি সম্ভাব্য মুনাফার ধারাবাহিকতায় থাকে তবে সেখানে বিনিয়োগ করা ফান্ডের ইউনিট কিনে বিনিয়োগকারীরা বছর শেষে ভাল লভ্যাংশ আশা করতে পারেন।

এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সামনে যত তুলে ধরা হবে তা বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ওপর ততো প্রভাব রাখবে।

তেমনি মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা যত বেশী তথ্য জানবে সেটি তাদের বিনিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহজ হবে। তাই এনএভির পাশাপাশি ফান্ডের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা থাকলে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।

পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর। জানা গেছে, তথ্য প্রকাশ না করার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন চলে আসায় ফান্ড ব্যবস্থাপকরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া ফান্ডের মোট আকারের ৮.৫৮ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৯০০ টাকা টাকা বিভিন্ন কোম্পানির অগ্রাধিকার (প্রেফারেন্স) শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড।

সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে সম্প্রতি রেস এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে সতর্ক করেছে বিএসইসি। এ ছাড়া ফান্ড ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এইমস এ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে।

Comments

comments