ব্রেকিং নিউজ

স্তন ক্যানসার রোধে সাহসী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

0,,15770217_401,00বিনোদন ডেক্সঃ মা মারা গেছিলেন স্তন ক্যানসারে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে৷ সেই জিন তাঁরও শরীরে৷ তাই রোগ প্রতিরোধে মাস্টেকটমি বা স্তনব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন হলিউডের এই আইকনিক অভিনেত্রী৷ আরো বড় কথা, অন্য মহিলাদের প্রেরণা দিতে শুনিয়েছেন সে কাহিনি৷

ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিলে ‘‘ব্র্যাঞ্জেলিনা''৷ এই জুটির নাম জানে না, এমন মানুষ আজ বিরল৷ হলিউডের মুকুটবিহীন রয়্যাল্টি, গ্ল্যামার কাপল্, আধুনিক কিংবদন্তি, রূপকথার মানুষ৷ জোলি যেমন সুন্দরীশ্রেষ্ঠা, পিট তেমনি সুপুরুষ৷ দুজনের ছ'টি সন্তান: তিনটি দত্তক, তিনটি নিজেদের৷

মানবিক বিচারেও অসাধারণত্বের কোনো কমতি নেই৷ কাট্রিনা ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত নিউ অর্লিন্সের বাসিন্দাদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন ব্র্যাড পিট৷ আঞ্জেলিনা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত নিয়োজিত হন ২০০১ সালে এবং আজও সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই কাজে৷ যেমন গত মার্চ মাসেই রুয়ান্ডা আর অ্যাঙ্গোলা ঘুরে এলেন তিনি৷

 সৌন্দর্য, সাফল্য, সুখি দাম্পত্য, এ সবের মাঝে অ্যাঞ্জেলিনার জীবনে কি শুধুই আলো, কোনো ছায়া নেই? তাঁর জীবনে দুঃখ এসেছে কালো ছায়া হয়ে, যখন তাঁর মা মাত্র ৫৬ বছর বয়নে স্তন ক্যানসারে মারা যান৷ পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায়, অ্যাঞ্জেলিনার স্বয়ং স্তন ক্যানসার এবং ওভারি বা ডিম্বকোষের ক্যানসার – দু'টি হবারই আশঙ্কা আছে৷ আশঙ্কা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা, কেননা বিআরসিএ-১ এবং বিআরসিএ-২, এই দু'টি জিনই তাঁর দেহে বর্তমান৷

অ্যাঞ্জেলিনার বয়স আজ ৩৭৷ এই বয়সের একজন মহিলাকে যদি বলা হয়, তাঁর স্তন ক্যানসার হবার সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ ও তাঁর ওভারিয়ান ক্যানসার হবার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ – এবং সেই মহিলা যদি অ্যাঞ্জেলিনার মতো সাহসী হন, তাহলে সেই মহিলা অ্যাঞ্জেলিনা যা করেছেন, ঠিক তাই করবেন৷ অ্যাঞ্জেলিনা শত্রু দেখা দেওয়ার আগেই তার পথ বন্ধ করার জন্য প্রিভেন্টিভ ম্যাস্টেকটমি, বা প্রতিরোধমূলক স্তনব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন, উভয় বক্ষেই৷

পুরো ট্রিটমেন্টে লাগে তিন মাস৷ শুধু অস্ত্রোপচারই চলে আট ঘণ্টা ধরে৷ গত ২৭শে এপ্রিল অ্যাঞ্জেলিনার ট্রিটমেন্ট শেষ হয়৷ এখন তাঁর স্তন ক্যানসার হবার ঝুঁকি মাত্র পাঁচ শতাংশ৷ সফল ট্রিটমেন্টের পর অ্যাঞ্জেলিনা প্রথম যে কাজটি করেছেন, সেটি হল নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ‘‘মাই মেডিক্যাল চয়েস'' বা ‘‘আমার চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত'' শীর্ষক একটি লেখা লিখেছেন৷

জোলি লিখেছেন, তাঁর এই লেখা অন্যান্য মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য৷ যাতে ঐ মহিলারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন এবং তাঁদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ ‘‘নিজের সম্পর্কে বাস্তব সত্যটা জানবার পর আমি প্রোঅ্যাক্টিভ হই৷… এখন আমি আমার ছেলে-মেয়েদের বলতে পারব যে, তাদের আর স্তন ক্যানসারে মাকে হারানোর কোনো ভয় নেই৷''

 সুন্দরীশ্রেষ্ঠা জোলি বর্ণনা করেছেন, অপারেশনের পর সারা বুকে ফ্লুইড ড্রেইন করার টিউব আর এক্সস্প্যান্ডার লাগানো অবস্থায় জেগে উঠতে কেমন লাগে৷ অপরদিকে অপারেশন থেকে তাঁর কয়েকটা দাগের বেশি কিছু থাকবে না৷ ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি, আমার নিজেকে কিছুমাত্র কম নারী মনে হচ্ছে না৷ আমি এমন একটা জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা আমার নারীত্বের কিছুমাত্র হানি ঘটায়নি, যা আসলে আমার ক্ষমতায়নের অঙ্গ৷''

জোলি নিজে হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে পড়েন৷ শুধু তাঁর জিন টেস্টের খরচ পড়েছে তিন হাজার ডলারের বেশি৷ সেটা যে অনেক মহিলার পক্ষে বাধা হয়ে উঠতে পারে, সেটা তিনি জানেন৷ তবুও তাঁর দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি যাদের আছে, এমন মহিলারা এই টেস্ট করাবেন বলে জোলি আশা করেন৷

অ্যাঞ্জেলিনার কাহিনি ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা' দিয়ে শেষ করা যাক৷ ব্র্যাড পিট পিংক লোটাস ব্রেস্ট সেন্টারে অপারেশনের সময় ছিলেন তো বটেই, ওরই মধ্যে আবার দু'জনে হাসিঠাট্টা করারও সময় পেয়েছেন, জানিয়েছেন জোলি৷ (এএফপি)

মা মারা গেছিলেন স্তন ক্যানসারে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে৷ সেই জিন তাঁরও শরীরে৷ তাই রোগ প্রতিরোধে মাস্টেকটমি বা স্তনব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন হলিউডের এই আইকনিক অভিনেত্রী৷ আরো বড় কথা, অন্য মহিলাদের প্রেরণা দিতে শুনিয়েছেন সে কাহিনি৷

ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিলে ‘‘ব্র্যাঞ্জেলিনা''৷ এই জুটির নাম জানে না, এমন মানুষ আজ বিরল৷ হলিউডের মুকুটবিহীন রয়্যাল্টি, গ্ল্যামার কাপল্, আধুনিক কিংবদন্তি, রূপকথার মানুষ৷ জোলি যেমন সুন্দরীশ্রেষ্ঠা, পিট তেমনি সুপুরুষ৷ দুজনের ছ'টি সন্তান: তিনটি দত্তক, তিনটি নিজেদের৷

মানবিক বিচারেও অসাধারণত্বের কোনো কমতি নেই৷ কাট্রিনা ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত নিউ অর্লিন্সের বাসিন্দাদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন ব্র্যাড পিট৷ আঞ্জেলিনা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত নিয়োজিত হন ২০০১ সালে এবং আজও সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই কাজে৷ যেমন গত মার্চ মাসেই রুয়ান্ডা আর অ্যাঙ্গোলা ঘুরে এলেন তিনি৷

 সৌন্দর্য, সাফল্য, সুখি দাম্পত্য, এ সবের মাঝে অ্যাঞ্জেলিনার জীবনে কি শুধুই আলো, কোনো ছায়া নেই? তাঁর জীবনে দুঃখ এসেছে কালো ছায়া হয়ে, যখন তাঁর মা মাত্র ৫৬ বছর বয়নে স্তন ক্যানসারে মারা যান৷ পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায়, অ্যাঞ্জেলিনার স্বয়ং স্তন ক্যানসার এবং ওভারি বা ডিম্বকোষের ক্যানসার – দু'টি হবারই আশঙ্কা আছে৷ আশঙ্কা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা, কেননা বিআরসিএ-১ এবং বিআরসিএ-২, এই দু'টি জিনই তাঁর দেহে বর্তমান৷

অ্যাঞ্জেলিনার বয়স আজ ৩৭৷ এই বয়সের একজন মহিলাকে যদি বলা হয়, তাঁর স্তন ক্যানসার হবার সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ ও তাঁর ওভারিয়ান ক্যানসার হবার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ – এবং সেই মহিলা যদি অ্যাঞ্জেলিনার মতো সাহসী হন, তাহলে সেই মহিলা অ্যাঞ্জেলিনা যা করেছেন, ঠিক তাই করবেন৷ অ্যাঞ্জেলিনা শত্রু দেখা দেওয়ার আগেই তার পথ বন্ধ করার জন্য প্রিভেন্টিভ ম্যাস্টেকটমি, বা প্রতিরোধমূলক স্তনব্যবচ্ছেদ করিয়েছেন, উভয় বক্ষেই৷

পুরো ট্রিটমেন্টে লাগে তিন মাস৷ শুধু অস্ত্রোপচারই চলে আট ঘণ্টা ধরে৷ গত ২৭শে এপ্রিল অ্যাঞ্জেলিনার ট্রিটমেন্ট শেষ হয়৷ এখন তাঁর স্তন ক্যানসার হবার ঝুঁকি মাত্র পাঁচ শতাংশ৷ সফল ট্রিটমেন্টের পর অ্যাঞ্জেলিনা প্রথম যে কাজটি করেছেন, সেটি হল নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ‘‘মাই মেডিক্যাল চয়েস'' বা ‘‘আমার চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত'' শীর্ষক একটি লেখা লিখেছেন৷

জোলি লিখেছেন, তাঁর এই লেখা অন্যান্য মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য৷ যাতে ঐ মহিলারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন এবং তাঁদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ ‘‘নিজের সম্পর্কে বাস্তব সত্যটা জানবার পর আমি প্রোঅ্যাক্টিভ হই৷… এখন আমি আমার ছেলে-মেয়েদের বলতে পারব যে, তাদের আর স্তন ক্যানসারে মাকে হারানোর কোনো ভয় নেই৷''

 সুন্দরীশ্রেষ্ঠা জোলি বর্ণনা করেছেন, অপারেশনের পর সারা বুকে ফ্লুইড ড্রেইন করার টিউব আর এক্সস্প্যান্ডার লাগানো অবস্থায় জেগে উঠতে কেমন লাগে৷ অপরদিকে অপারেশন থেকে তাঁর কয়েকটা দাগের বেশি কিছু থাকবে না৷ ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি, আমার নিজেকে কিছুমাত্র কম নারী মনে হচ্ছে না৷ আমি এমন একটা জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা আমার নারীত্বের কিছুমাত্র হানি ঘটায়নি, যা আসলে আমার ক্ষমতায়নের অঙ্গ৷''

জোলি নিজে হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে পড়েন৷ শুধু তাঁর জিন টেস্টের খরচ পড়েছে তিন হাজার ডলারের বেশি৷ সেটা যে অনেক মহিলার পক্ষে বাধা হয়ে উঠতে পারে, সেটা তিনি জানেন৷ তবুও তাঁর দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি যাদের আছে, এমন মহিলারা এই টেস্ট করাবেন বলে জোলি আশা করেন৷

অ্যাঞ্জেলিনার কাহিনি ‘ব্র্যাঞ্জেলিনা' দিয়ে শেষ করা যাক৷ ব্র্যাড পিট পিংক লোটাস ব্রেস্ট সেন্টারে অপারেশনের সময় ছিলেন তো বটেই, ওরই মধ্যে আবার দু'জনে হাসিঠাট্টা করারও সময় পেয়েছেন, জানিয়েছেন জোলি৷ (এএফপি)

Comments

comments