ব্রেকিং নিউজ

শিগগিরই চালু হবে পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম

_thereport24দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ভবনে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বসার কক্ষ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এজলাস কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। এটা শেষ হলেই কমিশনের নির্দেশে যেকোনো সময় পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে হাউস বিল্ডিং ভবনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কাজ বুঝে নেওয়া জন্য গত ৩১ ডিসেম্বর বিএসইসি একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন— উপ-পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান (আহ্বায়ক), উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আল মাসুম মৃধা (সদস্য) ও সহকারী পরিচালক গৌর চাঁদ সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স ভবনের ১০ তলায় সরেজমিন দেখা গেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবিরের (বিশেষ জজ) ও তার ব্যক্তিগত সহকারী বা জারিকারক মো. সাইফুল ইসলামের বসার কক্ষ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

এখন বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এজলাস কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে বিএসইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য বিএসইসির পক্ষ থেকে সব রকম সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিচারক ও এজলাস কক্ষের নির্মাণকাজ শেষ হলেই, কবে থেকে তা চালু করা যায় সে বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পুরো এক বছর অতিবাহিত হলেও ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের বেঞ্চে ১৯৯৯ সালের দুটি (মামলা নং ৩৫৯৯/৯৯ ও ৩৫৯৬/৯৯) মামলায় আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষ ও বিএসইসি পক্ষের আইনজীবী বর্তমান বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনেও মামলা দুটি পরিচালনা করেছেন। এক্ষেত্রে বিএসইসির পক্ষের আইনজীবীর আগ্রহ বেশী ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মামলাগুলো নিষ্পত্তির আগে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের অনুমতি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছরের ঝুলে থাকা মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম চালুর আগেই হঠাৎ নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয়টি নানা মহলে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তাই এ সব বিষয় বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বসার কক্ষ নির্মাণ করে শিগগিরই বিচারিক কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

গত ১৪ অক্টোবর বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিএসইসির ২০১৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কমিশনের পক্ষে ও বিপক্ষে সর্বমোট ৫৩৫টি মামলা বিভিন্ন কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চালু হলেই সার্টিফিকেট বাদে অন্যান্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে আছে ১৭টি, হাইকোর্ট বিভাগে ২২১টি, স্পেশাল জজকোর্ট এবং পরিবেশ আপিল আদালত ঢাকায় একটি, তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ কোর্টে ছয়টি, মহানগর দায়রা জজ কোর্টে নয়টি, মহানগর দায়রা জজ প্রথম অতিরিক্ত কোর্টে তিনটি, মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় অতিরিক্ত কোর্টে দুটি, মহানগর দায়রা জজ পঞ্চম অতিরিক্ত কোর্টে দুটি, মহানগর সহকারী দায়রা জজ প্রথম অতিরিক্ত কোর্টে একটি, চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ কোর্টে একটি, পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ কোর্টে নয়টি, চতুর্থ সহকারী জজ কোর্টে একটি, নবাবগঞ্জ সহকারী জজ কোর্টে একটি, মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ছয়টি, শ্রম আদালতে (লেবার কোর্ট) দুটি, জেনারেল সার্টিফিকেট কোর্টে ২৫৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলার মধ্যে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৮টি, মহানগর দায়রা জজ এক কোর্টে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর ২০০৯-১০ সালের শেয়ার কারসাজির বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দায়ের করা দুটি মামলা সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। উল্লেখ্য,

গত ৭ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আর গত ১৬ মার্চ হুমায়ুন কবির কাজে যোগদান করেন।

Comments

comments