ব্রেকিং নিউজ

পরলোকে সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল

দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল আর নেই। সোমবার ভোর ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মোস্তফা কামালের মৃত্যুর খবর পৌঁছলে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকরা তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এজলাস থেকে নেমে যান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ তার বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন। মোস্তফা কামাল ছিলেন বাংলার প্রখ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী আব্বাস উদ্দিনের সন্তান। তার বোন ফেরদৌসী রহমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। তার আরেক ভাই মোস্তফা জামান আব্বাসীও একজন লোকসঙ্গীতশিল্পী। তার পরিবার বঙ্গের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবার হওয়ায় মোস্তফা কামাল এক সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছেন।

তার পরও একজন আইনজ্ঞ ও বিচারপতি হিসেবে মোস্তফা কামাল মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন বলেই দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদটিও অলংকৃত করতে পেরেছেন। যে সীমিতসংখ্যক বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য কাজ করেছেন, বিচারপতি মোস্তফা কামাল তাদের অন্যতম। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী পরিণত বয়সেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

তবে তার কর্ম আমাদের ভবিষ্যৎ জাতীয় জীবনে কোনো ভূমিকা রাখলে তিনি চিরঞ্জীবী হয়ে থাকবেন। তিনি ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের জন্যই তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেই যে এই পদে আসীন হয়েছিলেন, সেটা স্বীকৃত।

নানান কারণে বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ও অসহিষ্ণুতার কারণেই বিচার বিভাগকে বিভিন্ন ধরনের অযাচিত চাপের মধ্যে পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে কিছুসংখ্যক বিচারপতি বিচার বিভাগের জন্য আশার পথ দেখিয়ে থাকেন। বিচারপতি মোস্তফা কামাল তাদেরই একজন। আমরা তার এই চলে যাওয়ায় ব্যথিত। একজন বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড এবং বিচারপতি হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করেছেন। নিশ্চয়ই পরজগতে তিনি তার পুরস্কার রবের নিকট থেকে পাবেন।

Comments

comments