ব্রেকিং নিউজ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থ বেড়েছে

imagesদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ ৫,জানুয়ারি সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতীয়দের অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) থেকে প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৩’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

২০১৩ সালের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় গত বছর। এতে দেখা বলা হয়, ২০১৩ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের অন্তত ৩৭ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত রয়েছে, যা প্রায় ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা তিন হাজার ১৬২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এটি আগামী অর্থবছরে ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার যে পরিমাণ প্রকৃত ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে, তার প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে নিট বিদেশী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০১২ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের অন্তত ২২ কোটি ৮৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ গচ্ছিত ছিল, যা প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৯০৮ কোটি টাকার সমান। এটি সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যে অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়েছে, তার মোট পরিমাণ। ঋণ ও আমানতের সুদ হার : দেশের ব্যাংক খাতের ঋণ ও আমানতের সুদের হারের মধ্যকার ব্যবধান সামান্য বেড়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের শেষ মাস জুন শেষে এ ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশীয় পয়েন্ট বা মাত্রা। এটি অর্থবছরের শুরুর মাস অর্থাৎ গত বছর জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ব্যাংক খাতের ঋণের গড় সুদের হার ছিল ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে আমানতের সুদের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই তথ্য বিশ্লেষণে আরও প্রতীয়মান হয় যে, আমানতের প্রকৃত সুদের হার এখন নেতিবাচক পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে এর পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ৯২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা জমা করেছেন গ্রাহকরা। খেলাপি ঋণ : ব্যাংক খাতে বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫১ হাজার ৩৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই হাজার ৩০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ৬২২ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ১৫১ কোটি বা ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। বিদেশী ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর বিশেষায়িত চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় এক হাজার ৩২৫ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫২ কোটি টাকা বা বিতরণ করা ঋণের ৩৩ দশমিক ১২ শতাংশ। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর এই খাতে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ সব দুর্ঘটনা থেকে সতর্ক হয়েছি। আশা করি, আগামী বছর আমাদের ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও ভাল হবে, পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের উন্নয়ন হবে।’

Comments

comments