ব্রেকিং নিউজ

আবাদী জমি রক্ষায় ৩১৩ কোটি টাকার গৃহনির্মাণ প্রকল্প

Rural_housng_thereport24.comদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ কৃষি ও আবাদী জমি রক্ষায় বাড়ি নির্মাণে গ্রামের মানুষকে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘বাংলাদেশ পল্লী আবাসনে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছর থেকেই এ ঋণ প্রদান করা হবে। পাঁচ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পের আতওায় একজন ঋণগ্রহীতা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের বিপরীতে সুদের হার ৬ শতাংশ। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ে ঋণের কিস্তি শোধ করতে হবে না) ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। লাখপ্রতি ঋণের সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি হবে ৭১৭ টাকা। এ হিসাবে একজন ঋণগ্রহীতা ১০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে পরিশোধ করবেন ১৭ লাখ ২০ হাজার ৮শ’ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের পলিসি নির্ধারণ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আট সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং হাউস বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাউস বিল্ডিংয়ের সাতটি জোনাল এবং ১৫টি আঞ্চলিক (মোট ২২টি) অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ২২টি এলাকায় ৩৭৫টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে আটটি ইউনিট থাকবে। সে হিসাবে তিন হাজার হাউজিং ইউনিটে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ আবাসন সুবিধা পাবেন। প্রকল্পের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা মেটাতে গ্রামীণ এলাকায় যত্রতত্র নির্মিত হচ্ছে নতুন বাড়িঘর। এর ফলে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ কৃষি ও আবাদী জমি নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষিজমি রক্ষায় পল্লী এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএইচবিএফসি-এর ব্যবস্থপনা পরিচালক ড. মো. নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষিজমির পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে তা সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’ প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ অনুযায়ী, পাঁচটি আর্থিক বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিবছর বরাদ্দ ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা রাখার কথা বলা হয়েছে।

Comments

comments