ব্রেকিং নিউজ

জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রিট

jihad_sm_470847624-300x165রাজধানীর শাজাহানপুরে শিশু জিহাদকে জীবিত উদ্ধারে সরকারি সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মাইনুল হক।

এছাড়াও অপর একটি রিট আবেদনে জিহাদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

চিল্ড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম এ রিট দায়ের করেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শাজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেল তিনটার দিকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রিট আবেদনে তদন্ত কমিটিতে জিহাদের মরদেহ উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করার  আবেদন করা হয়েছে। আর এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জিহাদকে উদ্ধারে গাফিলতিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম জানান, জিহাদকে উদ্ধারকারী ৫ যুবককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করতে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও গত ২ বছরে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কী কী আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে, তার একটি তালিকা আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ বাদে সারাদেশে যেসব ম্যানহোলের ঢাকনা, স্যুয়ারেজ লাইন ও পানির পাম্পের মুখ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, তার একটি তালিকা দাখিল করার জন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

সৈয়দ মাইনুল হকের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রিট আবেদনে জিহাদের বাবাকে ১২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর যেসব এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, সেগুলো দ্রুত স্থাপনের জন্য ডিসিসি ও ওয়াসাকে নির্দেশ দিতে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল আরো বলেন, রেলওয়ের শাজাহানপুর কলোনিতে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের মুখ খোলা থাকার এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই পাইপের মুখ বন্ধ করে দিতো, তাহলে এ ধরনের নির্মম ঘটনার মুখোমুখি দেশবাসীকে পড়তে হতো না।

এজন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে এই রিট দায়ের করা হয়েছে।

Comments

comments