ব্রেকিং নিউজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাব পাস

934a2196f3d45b32ac678770783194c0_XL৩ ডিসেম্বর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার ব্যাপারে বেশ কিছু প্রস্তাব পাস করেছে। সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের বিপদের বিষয়েও প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবে দখলদার ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬১টি ও বিপক্ষে ৫টি ভোট পড়েছে এবং ১৮টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। প্রস্তাবে ইসরাইলের সব পরমাণু অস্ত্র আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। আমেরিকা ও কানাডা সরাসরি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আরেকটি প্রস্তাবে পরমাণু অস্ত্রধর সব দেশকে যত দ্রুত সম্ভব এ অস্ত্রের উৎপাদন ও মজুদ বন্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলার জন্যও পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলোর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। পরমাণুসহ সব ধরণের মারণাস্ত্রের ব্যাপারে বিশ্বে এত বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এ ধরনের প্রস্তাব পাশ করে যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটে। যদিও এসব প্রস্তাব মানতে কেউ বাধ্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরণের প্রস্তাব পাস বিশ্বের জন্য একটি বার্তা যার মাধ্যমে কোনো বৈষম্য ছাড়াই পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তির নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং এসব মারণাস্ত্রের ওপর আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইএইএ’র একটি মারাত্মক দুর্বলতা হচ্ছে, এনপিটি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা। এ দুর্বলতার কারণে পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলো এনপিটির ছয় নম্বর প্রস্তাব মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে আমেরিকা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো সহযোগিতা করেছে। পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় বর্তমানে ইসরাইলের হাতে প্রায় ৩০০টি পরমাণু বোমা রয়েছে।

বর্তমানে সারা বিশ্বে অবস্থিত ২৭ হাজার পরমাণু বোমা মানবতার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নে কয়েকটি দেশ বিপুল অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে যা কিনা পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে আইএইএ’র নীরবতা থেকে দায়িত্বের ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ জোরদার হয়েছে। আইএইএ সবসময়ই মার্কিন চাপে ইরানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

উদাহরণ স্বরূপ এই সংস্থার মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো তার প্রতিবেদনে দাবি করেছেন ইরান সন্দেহজনক পরমাণু তৎপরতা চালাতে পারে। অথচ এ বক্তব্যের স্বপক্ষে তিনি আজ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। কারণ মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসব দাবি করা হয়েছিল। আমেরিকার চাপের মুখে আইএইএ ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সংস্থাটি প্রকৃত হুমকির বিষয়ে কখনো মুখ খোলে না। এরই আলোকে মারণাস্ত্রের হুমকির ব্যাপারে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশ ও প্রস্তাব পাশের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।

Comments

comments