ব্রেকিং নিউজ

দুর্নীতির শীর্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

3-20131206-RajibDhar3722দুর্নীতির শীর্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে নিত্য নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জামিনে বের হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে। জানা যাচ্ছে যে, চার দেয়ালের ভেতরে আবদ্ধ অবস্থায় বন্দিরা কত অসহায়। বন্দিদের অসহায়ত্বকে জিম্মি করে কারা প্রশাসন ও কারা পুলিশদের অনৈতিক বানিজ্য চলছে বছরের পর বছর। অসহায় বন্দিরা, অবৈধ টাকার পাহাড় বানাচ্ছে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কারা পুলিশরা। বাটপারি, প্রতারণা, ঘুষ, চুরি, জুলুম ও নির্যাতন কত রকমের ও কত ধরনের তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। কারাগারের গেটের সামনে, কারা স্টেশনারির সামনে ও দর্শনার্থিদের সাথে বন্দিদের সাক্ষাৎকারের কামরায় প্রবেশ করলে দেখা যায় দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ। এটা হচ্ছে দুর্নীতির বাইরের রূপ। যারা ভেতরে বন্দি ছিল তারা জানে কারাগারের দুর্নীতির আসল রূপ। বন্দিরা ভেতরে প্রবেশের পরপরই দেহ তল্লাশির নামে টাকা পয়সা, সিগারেট, খাবার ইত্যাদি থাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কারা পুলিশরা। প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদি বন্দিকে কারা পুলিশরা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মারছে এমনকি কিল ঘুষি মারছে। বন্দিদের মধ্যে তখন চরম আতংক বিরাজ করে। বন্দিরা একে অপররের সাথে আলাপ করে ও বলছে এটা কোন জগৎ!

বন্দি-দর্শনার্থি সাক্ষাৎ বানিজ্যঃ

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ি একজন বন্দি সপ্তাহে একদিন দর্শনার্থির সাথে আক্ষাৎ করতে পারবেন। সাক্ষাতের সময় হাজতি কার্ড সাথে আনতে হবে ও কার্ডে সিল ও যে তারিখে সাক্ষাৎ করেছে সে তারিখটা লিখে দিতে হবে যাতে সাত দিনের মধ্যে সে আর কারও সাথে সাক্ষাৎ করতে না পারে। তবে এ সাক্ষাৎকার নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চলছে বিচিত্র সব ব্যবসা। কোন বন্দি সপ্তাহে একবারের বেশী সাক্ষাৎ করতে চাইলে ইন্টার রুমের বাইরে যে জামাদার সাক্ষাতের জন্য লাইনে দাঁড়ানো বন্দিদের হাজতি কার্ডে সিল ও তারিখ পরীক্ষা করে সে জমাদারকে এক প্যাকেট গোল্ড লিফ সিগারেট বা নগদ একশত টাকা দিলে হাজতি কার্ডে সিল ও তারিখ কিছুই লাগে না। এভাবে গোল্ড লিফ বা একশত টাকা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বন্দি সপ্তাহে একদিনের বেশী সাক্ষাৎ করছে দর্শনার্থিদের সাথে। বন্দি ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই জমাদারকে গোল্ডলিফ বা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে প্রতিদদিনই সাক্ষাৎ করতে পারে। চাই শুধু নগদ নারায়ন। বন্দিদের কাছ থেকে জানা গেছে সিআইডি জমাদার সাইফুল ইসলাম বন্দিদের কাছ থেকে এভাবে টাকা ও সিগারেট আদায় করে প্রতিদিন সক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়ে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে গেছেন। বন্দিরা জামিনে বের হয়ে আরও জানায় যে, জেইলার ও সিনিয়র জেল সুপারকে ম্যানেজ করে সাইফুল ইসলাম কিছুদিন পরপরই ইন্টার রুমের বাইরে সাক্ষাতকারের জন্য অপেক্ষমান বন্দিদের হাজতি কার্ড ও সাক্ষাতের টিকেট পরীক্ষা করার দায়িত্ব নিত।

ভি আই পি টিকেটে স্বাক্ষাৎঃ

বন্দিদের সাথে স্বাক্ষাতের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারন টিকেটে ম্বাক্ষাৎ করতে হলে বাইরে দু ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে স্বাক্ষাৎকারিকে। সাধারন টিকেট অনেক সময় বন্দির কাছে পৌঁছে না। ফলে দর্শনার্থিকে বিনা স্বাক্ষাতে ফেরত আসতে হয়। এক্ষেত্রে ভি আাই পি টিকেট নিরাপদ। তিনশত টাকা দিয়ে ভি আই পি টিকেট করলে টিকেটটি তাড়াতাড়ি বন্দির কাছে চলে যায়। দর্শনার্থিকেও বাইরে দু ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় না। ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য যাদের পয়সা আছে তারা সবাই ভি আই পি টিকেট করে বন্দির সাথে স্বাক্ষাৎ করছে। সাদা কাগজে বন্দির নাম, পিতার নাম, থানার নাম ও লক আপের নাম লিখে দিলে কাগজটিতে একজন ডেপুটি জেইলার স্বাক্ষর করে দিলেই তা ভি আই পি টিকেট হয়ে যায়। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থি ভি আই পি টিকেট দিয়ে বন্দিদের সাথে দেখা করছে হয়রানি ও দু ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য। সূত্রে জানা গেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন দর্শনার্থিদের কাছে ভি আই পি টিকেট বিক্রি করে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ২০০০ টি ভি আই পি টিকেট বিক্রি করলে একদিনে আদায় হচ্ছে ছয় লাখ টাকা। বিশাল এ টাকা ডেপুটি জেইলার, জেইলার, সিনিয়র জেল সুপার ও কারা অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিলিবন্টন হয় বলে ভুক্তভোগিদের কাছ থেকে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

 

Comments

comments