ব্রেকিং নিউজ

যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী।ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

86821_1-1যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী।রাজধানী ঢাকাকে অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরেছে যানজট। রাজধানীতে এক দিকে সড়কপথ যেমন বাড়ছে না, অন্য দিকে বেড়ে চলছে যানবাহন। সড়কপথের সাথে সামঞ্জস্য না রেখেই যানবাহন চলাচলের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এর ফলে যানজট তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীতে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রতিদিন যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা রাজধানীর বিভিন্ন রেলগেট দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে এসব সড়কে যানজট প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানী থেকে গাড়ির চাপ কমাতে পাঁচটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। সে পরিকল্পনাও এখন ফাইলবন্দী। যানজট কমাতে রাজধানীর চার পাশে নৌ-রুট চালুর বিষয়ে সরকারের মহা পরিকল্পনাটি এখনো ফাইলবন্দী। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেগাসিটি ঢাকা শহরে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে অনুপাতে রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ বা বিকল্প রাস্তা নির্মাণ হয়নি। বিগত কয়েক বছরে রাজধানীতে নতুন এক কিলোমিটার রাস্তাও নির্মাণ হয়নি। একটি শহরের জন্য মোট আয়তনের ২২ থেকে ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। তবে ঢাকা শহরে রয়েছে মাত্র আট ভাগ। রাজধানী ঢাকায় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এর মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল। রাজধানীর ২০টি রেলওয়ে গেট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭২টি ট্রেন চলাচল করে। এ ট্রেন চলাচলের ফলে প্রতিটি গেটে প্রতি ট্রেনের জন্য পাঁচ মিনিট হিসাবে প্রায় ছয় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি প্রতিটি সরকারের আমলে ভাবিয়ে তুললেও এ পর্যন্ত সমস্যার কোনো সমাধান বের করা

   ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। কোথাও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালে যানবাহন চলছে না। কোথাও লাল বাতি প্রদর্শন হলেও ট্রাফিক পুলিশের হাতের সিগন্যালে চলাচল করছে যানবাহন। কোথাও আবার একের পর এক সবুজ বাতি জ্বললেও যানবাহন থেমে যাচ্ছে হাতের ইশারায়। ১০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে এক ঘণ্টা সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এতো গেল রাজধানী ঢাকার চিত্র। ঢাকার বাইরেও যানজটের ভয়াবহতা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-আরিচা রুটে যানজট এখন নিত্য ঘটনা। যানজটের কারণে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে কোনো কোনো দিন যাত্রীকে অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বেশি সময় গুনতে হয়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি যানজটের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যানজটের কারণে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার তি হচ্ছে। দিনে নষ্ট হচ্ছে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তÑ ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে গড়ে সাত ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রকৌশলী আবদুল্লøাহ আল মামুন, সৈয়দ মইনুল হাসান ও পরিবহনবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ মারুফা ইসমাত রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সমীা চালিয়ে য়তির এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে এসএমই ফাইন্যান্সিং ফেয়ারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেরিতে পৌঁছার জন্য সরাসরি যানজটকে দায়ী করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ােভ জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেন। এর আগে তিনি অধ্যাপক জিল্লুর রহমানের বাসায় যান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বলেন, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান আমার গুরুজনের মতো। তার মৃত্যুর পর তার বাড়িতে না গিয়ে বা তার স্বজনদের সাথে দেখা না করে সকাল শুরু করব, এটা ভাবতে পারি না। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেটাও দেরি হওয়ার মূল কারণ নয়। মূল কারণ ট্রাফিক সিস্টেম। আমাদের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পুওর। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকা খরচ করে রাস্তাগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তা মানার সংস্কৃতি আমাদের নেই। তাহলে এই বাতি লাগানোর মানে কী। ৩০ মিনিটের রাস্তা ৪৫ মিনিট লাগতে পারে, এটা যখন এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে, তা ঠিক না। তিনি যানবাহন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, আমাদের কি রাস্তাঘাট ছোট, নিশ্চয়ই না। আপনারা ছুটির দিনে যখন বের হন নিশ্চয়ই তা উপলব্ধি করেন। দোষ রাস্তার না। সমস্যা আমাদের ম্যানেজমেন্টের।

Comments

comments