ব্রেকিং নিউজ

ব্যাংকের সুদ হার দেখলে চমকে উঠি

kazi-akramব্যাংকিং সেক্টরে বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। এই টাকা দেশেই বিনিয়োগের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বিনিয়োগবন্ধব নয়।

বুধবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিট’ এর দ্বিতীয় সভায় একথা বলেন এফবিসিআইএ সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাজী আকরাম বলেন, ‘আমরা ব্যাংকের সুদ কমাতে চাই। কারণ ১৫-১৬ শতাংশ সুদ দেখলে আমিই চমকে উঠি। আমরা ব্যাংকাররা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে, সরকারি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সুদ না কমালে আমাদের পক্ষে এ সুদহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।’

এ সময় বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম ব্যবসাক্ষেত্রের নানা সমস্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার ওপর চাপ কমানোর জন্য আমরা যখন ঢাকার বাইরে যেতে চাচ্ছি ঠিক তখন আমাদের গ্যাসলাইন ট্রান্সফার করতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্যাসের লাইন সরানো যাবে না। নতুন ফ্যাক্টরির পারমিশন দেয়া হচ্ছে না। ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো যখন আমাদের থেকে প্রিমিয়াম নিচ্ছে তখন কোনো সমস্য নেই। যখনই কোনো ক্লেইম যাচ্ছে তখনই বিভিন্ন ধরনের ‘ধারা’ তুলে ধরা হয় আমাদের সামনে যাতে করে আর ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। এটা দেখার কেউ নেই।’

এছাড়া, অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা গ্যাস, বিদ্যুৎ, জমি, সরকারের বিভিন্ন স্তরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ওয়ানস্টপ সার্ভিস না থাকার কারণে ভোগান্তি, সোর্স ট্যাক্সের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এসময় ব্যাবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস, ল্যান্ড, পরিবেশ এসব বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে নানা জটিলতা পোহাতে হয়, তা আমি জানি। প্রসেসটাও কঠিন। কিন্তু আপনাদের সমস্যাগুলো আমি জানলাম, এখন খুব দ্রুত এগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্ত্রী সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয় নিয়ে বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। এখন আমাদের বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই। আর মানুষও এ বিষয়টি জানে বলে কোনো জায়গায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।’

পোশাক শিল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ, পাকিস্তানসহ অনেকে এখানে এ শিল্প টিকুক তা চায় না। তবে আমরা এগিয়ে যাবই। আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। আমরা ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বিকেএমইর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এমপি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান, বাংলাদেশ উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা।

Comments

comments