ঢাকার চারপাশ প্লাবিত, আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে

প্রতিবেদক:

বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ২১ জেলায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ এখন পানিবন্দী। আগস্ট পর্যন্ত বন্যার পানি থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। ইতিমধ্যে বন্যার্ত মানুষের মধ্যে বিপদ হয়ে হাজির হয়েছে রোগবালাই। সরকারি হিসাবেই গত তিন সপ্তাহে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে ৮৬ জন মারা গেছে। এরই মধ্যে পানিবাহিত নানা রোগে ৬ হাজার ৩৮০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এক এলাকার পানি কমতে শুরু করছে তো নতুন করে আরেক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১৯টি নদ-নদীর পানি। নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ঢাকার আশপাশসহ দেশের মধ্যাঞ্চল। তীব্র স্রোতে আরও প্রকট হয়েছে নদীভাঙন।

বাসস্থান তলিয়ে যাওয়া আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে অবস্থান করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়া ও গবাদিপশুর খাদ্য সংকট, এছাড়া বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে ভুগছেন তারা। কলেরা, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে ভুগছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গত ২৩ জুলাইয়ের  তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সারা দেশের ৩০ জেলা প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার ১৪৩টি উপজেলার ৮ লাখ ২৬ হাজার ২৭১টি পরিবারের ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ২৯ জন।

বানভাসিরা ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংকটের অভিযোগ করলেও তা মানতে নারাজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ চাওয়া হয়েছে তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রতিনিধিরা বিতরণ করবে। যেসব এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে সেখানেও ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। তবে বন্যার কারণে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়াসহ কিছু যৌক্তিক কারণে অনেকের কাছে ত্রাণ পৌঁছতে দেরি হচ্ছে বলে দাবি তাদের

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকালের তথ্যে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পদ্মার পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকা জেলার আশপাশের নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

কেন্দ্র বলছে, বন্যায় বর্তমানে আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ২০টি। বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে ১৯টি নদ-নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর বিপদসীমার ওপরে স্টেশনের সংখ্যা ৩০টি।

 

Comments

comments