ব্রেকিং নিউজ

পাকিস্তানি রাজনীতিকদের ঘুম হারাম করা কে এই ‘রিচি’?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

নেতাদের একের পর এক যৌন হয়রানির খবর সামনে আসায় টালমাটাল পাকিস্তানের রাজনীতি। গত শুক্রবার দেশটির সাবেক অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী রহমান মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন মার্কিন সাংবাদিক-ব্লগার সিন্থিয়া ডি রিচি। এরপর  দেশটির এক টিভি সঞ্চালকের দাবি, সিন্থিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 

সিন্থিয়া আরও অভিযোগ করেন, সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও মন্ত্রী মখদুম সাহাবুদ্দিনও তার গায়ে হাত তোলেন। সিন্থিয়ার এমন অভিযোগে ঘুম হারাম রাজনীতিকদের। 

কে এই সিন্থিয়া?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে সিন্থিয়ার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সংবাদমাধ্যমটির পাঠানো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তিনি সরাসরি দেননি। সিন্থিয়া জানিয়েছেন, এগুলোর উত্তর তিনি লাইভে দেবেন।  

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো তিনি প্রায় এক দশক ধরে পাকিস্তানে রয়েছেন। তাকে একজন ব্লগার, ফিল্মমেকার ও সোশাল মিডিয়া উৎসাহী বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্যমতে, সিন্থিয়া লুজিয়ানার বাসিন্দা। আর শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা আছে লুজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি ও হাউস্টন স্কুল অফ ল, পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি ও জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস কমিউনিকেশন, ক্রিমিনাল জাস্টিস, কনফ্লিক্ট রেজলিউশন, ক্লিনিকাল অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সাইকোলজি ও স্ট্র্যাটেজিক পাবলিক রিলেশনে স্নাতক স্তরের ট্রেনিং রয়েছে তার।

এ ছাড়া বায়োডেটায় বলা হয়েছে, তিনি ফিল্মমেকিং সংস্থা ডিফারেন্ট লেনস প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত। এই সংস্থা ফেসবুক পেজে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সোয়াট উপত্যকার ছোট ভিডিও রয়েছে। ইন্টারনেট সার্চ করে রিচির ব্লগের হদিশ মেলেনি এবং যদিও তিনি গত ১০ বছর ধরে বলে আসছেন যে তিনি তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন, সেটা সম্ভবত তিনি এখনো বানিয়ে উঠতে পারেননি।

পাকিস্তানি ম্যাগাজিন থেক্সপাটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিন্থিয়া বলেছিলেন, ২০১০ সালে সে দেশে বন্যার সময় থেকে তিনি পাকিস্তান যাচ্ছেন। তিনি বলেছিলেন, তার যাতায়াতের খরচ জোগান পাকিস্তানি আমেরিকানরা।

ওই পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি শ্রোতাদের পাকিস্তানের ইমেজ সম্পর্কে চমকে দিতে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, আমেরিকান সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান সম্পর্কে অতীব নেতিবাচক।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে সিন্থিয়া বলেন, ‘পাকিস্তানিরা আমাকে বলেছেন তোমার মতো মানুষ আমাদের প্রয়োজন, যাতে মানুষ জানতে পারে আমরা কেমন, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের বিশ্বাস কী রকম… যখন লোকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমি কেন পাকিস্তানকে বেছে নিলাম, তখন আমি উত্তর দিই আমি পাকিস্তানকে বাছিনি, পাকিস্তানই আমাকে বেছে নিয়েছে।’

তবে পাকিস্তানের কেউ কেউ তার সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় তারা বলেছিলেন, ভদ্রমহিলা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তি এবং তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে তিনি বছরের পর বছর পাকিস্তানে থাকার ভিসা পেয়ে যান এবং সেই সব জায়গায় যাওয়ার অধিকার পেয়ে যান যেখানকার ক্লিয়ারেন্স দিয়ে থাকে পাকিস্তান শাসনকারী সামরিক প্রতিষ্ঠান।

তার ফেসবুক পেজে দেখা যাচ্ছে, তিনি কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লবিইংয়ে সক্রিয়। কেউ কেউ মনে করেন, তিনি সিয়ার চর যার পাকিস্তানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গভীরে যোগাযোগ রয়েছে। অন্যরা মনে করেন, তিনি পাক মিলিটারির হয়ে কাজ করছেন এবং এই টুইট অসামরিক রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে পিপিপি-র বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিকতম আঘাত।

রিচি পাকিস্তান তহাফুজ মুভমেন্ট (পিটিএম)কেও টেনে এনেছেন। এই গোষ্ঠী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট, বিশেষ করে পাকিস্তানে আফগান নীতির ভৌগোলিক কেন্দ্র দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে।

নিজের উল্লিখিত তথাকথিত চিঠিতে রিচি বলেছেন, তিনি সরকার ও পাকিস্তান সেনার সঙ্গে যুক্ত বেশকিছু সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে কাজ করেছেন। যেমন কাউন্টার টেররিজম বিভাগ, খাইবারপাখতুনওয়ারার মহিলা কম্যান্ডো, হাইওয়ে ও মোটরওয়ে পুলিশ, মিলিটারি, নাকটা প্রভৃতি।

এরই মধ্যে পরিচিত টেলিভিশন সেলিব্রিটি আলি সালিম দাবি করেছেন  ইমরান খান যে রিচিকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে কথা রিচি নিজেই তাকে জানিয়েছেন। রিচি এর জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন, আলি সালিমের নেশা করার ইতিহাস সুবিদিত এবং এখন তার স্বাস্থ্য ভালো নেই।

যুদ্ধ চলছে মূলত টুইটারেই। সেখানে রিচির সমর্থকরা যেকোনো প্রশ্নকারীকে দেশদ্রোহী ও পাকিস্তান বিরোধী বলে দাগিয়ে দিচ্ছে এবং রিচিবিরোধীরা তার ভিসা, কাজ ও কে তাকে অর্থ জোগাচ্ছে সে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মানবাধিকার কর্মী মারভি সিরমেদ রিচিকে নিয়ে স্লাট শেমিং করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বন্ধুরা কেন ওকে গাল দিচ্ছেন, অপমান করছেন, যখন আমরা সকলেই জানি যে কে ওকে নিয়োগ করেছেন? উনি পাকিস্তানে হয়তো তাদেরই হাতে পণবন্দী। প্লিজ কখনো মহিলাদের স্লাট শেমিং করবেন না। কক্ষণও না।’

Comments

comments