ঢাকার বাইরেও কয়েকশ মানুষ কোয়ারেনটাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত সন্দেহে কয়েকশ ব্যক্তিকে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। ঢাকায় জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। সেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জেলা-উপজেলা এবং গ্রামগুলোয়ও। আক্রান্ত তিনজন ছাড়া আরও আটজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শতকোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কোয়ারেনটাইনে রাখার জন্য পৃথক ‘জায়গার’ ব্যবস্থা করছেন জেলা প্রশাসকরা। বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো সারাদেশে তাদের কর্মসূচি শিথিল করেছে। ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নানা কর্মসূচি স্থগিত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা এক দম্পতির শরীরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশির লক্ষণ থাকায় তাদের বাংলাদেশ কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরবেলা একটি ফ্লাইটে করে তারা সৌদি আরব থেকে আসেন।

এদিকে বিদেশ থেকে এলেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, এমনটি নয়। তার পরও প্রবাস থেকে যারা আসছেন তাদের অবশ্যই বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে। এমনই নির্দেশনা রয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে। তবে বিদেশফেরতদের নিয়ে অনেক স্থানেই করোনা আক্রান্তের গুজব ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণও করছে এলাকাবাসী।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বলেন, দেশে যে তিন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তারা একটি হাসপাতালের ‘আইসোলেশন’ ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

করোনা মোকাবিলায় ৩০ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠক হয়। এদিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা কুয়েতমৈত্রী হাসপাতাল, পুরনো ঢাকার মহানগর হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঢাকার বাইরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় মানিকগঞ্জে বিদেশ থেকে আসা ৫৯ ব্যক্তিকে নিজ বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় (হোম কোয়ারেনটাইন) রাখা হয়েছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ইতালিফেরত বাবা ও ছেলে এবং পাবনায় বিদেশফেরত তিনজনকে নিজ বাড়িতেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় মোংলা বন্দরের জেটির প্রবেশমুখে একটি বহনযোগ্য থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। নোয়াখালী জেলা সদরে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে নিচতলায়।

মঙ্গলবার সংক্রমণের আশঙ্কায় ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তহাট সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা করতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে থার্মাল ইমেজ ডিটেকশন মেশিন।

গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়। আড়াই মাসের কম ব্যবধানে পৃথিবীর অর্ধেক দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে আক্রান্ত হওয়ার ঘোষণা আসে গত রবিবার। বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ার মাধ্যমে সার্কভুক্ত সব দেশে করোনা রোগী পাওয়া গেছে।সুত্র: আমাদের সময়।

Comments

comments