রাজশাহীতে বিল্ডিং কোর্ড অমান্য করে ভবন নির্মাণ, প্রতিবেশীদের দুর্ভোগ


আমানুল্লাহ আমান, রাজশাহী
রাজশাহী নগরীতে সৈয়দ রমিজুল হক ওরফে বাবুল হাজি নামের এক ব্যক্তি নকশা বহির্ভূতভাবে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করায় তার প্রতিবেশীরা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বাবুল হাজি নগরীর কুমারপাড়া এলাকার ১০৬ নম্বর হোল্ডিং এ তার নিজস্ব জায়গাতে পূর্বের বাড়ি ভেঙ্গে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু তা নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করছেন বলে তার  প্রতিবেশীদের অভিযোগ।
নগরীর কুমারপাড়া মহল্লার আবিদ হাসান সানুসহ কয়েকজন বাসিন্দা দৈনিক লাখোকণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন,  বাবুল হাজি নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (আরডিএ) লিখিত অভিযোগ দিলে তারা বাবুল হাজিকে নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে বলেন। কিন্তু সে আরডিএ'র আদেশ তোয়াক্কা না করে জোর খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছে। ভবনের ছাদ এতটা বৃদ্ধি করেছে যে, তার ছাদের পানি অন্যের বাড়িতে পড়বে।
আবিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, তার যতটুকু পানিপড়  রাখার কথা ততটুকু না রেখে ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন। যেভাবে ভবন নির্মাণ হচ্ছে  এতে মহল্লার অন্যান্যদের চলাচলে সমস্যা হবে। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আরডিএ থেকে তিন তিনবার বাড়ি ভাঙ্গার আদেশ দেয়া হলেও সে বাড়ি ভাঙ্গেনি। বরং জোরালোভাবে বাড়ি নির্মাণ কাজ চলছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আফজাল হোসেন ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই  আরডিএ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বে আইনি, অবৈধ, জোরপূর্বক কলম তুলে ভবনের কাজ করে যাচ্ছেন।
এমন অভিযোগের পর সেবছরই ২২শে আগস্ট আরডিএ এর পক্ষ থেকে বাবুল হাজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। তবে আরডিএ বাবুল হাজির কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় গত ২০১৭ সালের ২রা অক্টোবর তাকে একটি নোটিশ পাঠান।
সেই নোটিশে  বাবুল হাজিকে ত্রিশ দিনের মধ্যে ভবন অপসারণ করে তৎকালীন আরডিএ অর্থারাইজ অফিসার জনাব আব্দুল্লাহ আল তারিককে অবগত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। ত্রিশ দিনেও তিনি ভবন অপসারণ না করায় প্রায় দেড় মাস পর ১৬ নভেম্বর আরডিএ এর পক্ষ থেকে আবারও নোটিশ পাঠানো হয়। অপসারণ না করলে মেয়াদান্তে ইমারত নির্মাণের আইনানুসারে ইমারতের নকশার অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ইমারত নির্মাণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে অনুমোদন বহির্ভূত ইমারতের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে সেই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
তবুও বাবুল হাজি সেই নোটিশ উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সর্বশেষ গত ১৮ ই জুন আবারও বাবুল হাজির বিরুদ্ধে  আরডিএ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আবিদ হাসান সানু।
এদিকে এমন ইমারত নির্মাণ সম্পর্কিত আইন থাকার পরও আরডিএ শুধু নোটিশ দিয়ে দায়সারা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তারা বলেন,আরডিএ শুধু নোটিশ দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। রীতিমতো ভবন নির্মাণ চলছেই। অথচ আইন থাকার পরও আরডিএ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
প্রতিবেশীদের দাবি, তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে প্রতিবেশীদের চলাচলে জায়গা রেখে এবং নিজস্ব পানিপড় রেখে নিয়মমাফিক কাজ করা হোক। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তারা এর এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ)  প্রতি আহবান জানান।
তবে অভিযুক্ত বাবুল হাজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আরডিএ'র নিয়ম মেনেই বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। নকশা মেনেই কাজ করা হচ্ছে।

Comments

comments