দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ


প্রতিবেদক:  
স্মরণকালের সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস চলতি অর্থবছরে আট দশমিক এক তিন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, এ বছর বাংলাদেশ হবে বিশ্বের শীর্ষ তিন ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির একটি। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বৈষম্য। সরকারের হিসাবই বলছে, অর্থনীতির আকার বাড়ার সাথে সাথে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
 
দ্রুতগতিতে বদলাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। বাড়ছে কিছু মানুষের ভোগ বিলাস, বাড়াচ্ছে প্রবৃদ্ধিও।

বিবিএসের হিসাবেই দেশে কমছে দরিদ্রের আয়। ভালো নেই মধ্যবিত্তও। তবে বাড়ছে ধনীদের। এর মাঝেই চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রক্ষেপন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ১৩। প্রশ্ন তাই, এর কতটুকু সুফল যাবে সাধারণের ঘরে? কতটুকু বাড়াবে কাজের সুযোগ?

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমরা ক্রমেই বাড়ছি। কিন্তু এই বাড়ার মধ্যে বৈষম্য লুকায়িত আছে। সুতরাং আমাদের চিন্তা করতে হবে এই প্রবৃদ্ধির বন্টনের দিকটা।'

পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলনে, 'প্রবৃদ্ধিকে হাত না দিয়ে আমরা বৈষম্যকে কমিয়ে রাখতে চাচ্ছি। আশা করি আমরা যে পরিকল্পনা প্রনয়ণ করছি তাতে অন্তত প্রাধিকার থাকবে যেন আয় বৈষম্যটা আর না বাড়ে।'

দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও রয়েছে আলাদা আলাদা পর্যবেক্ষণ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের হিসাবে তা ৭ দশমিক ৩। আর এডিবির মতে, বছর শেষে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৮ শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে, প্রবৃদ্ধি বাড়বে মূলত শিল্পের ওপর ভর করে। তবে গেলবারের চেয়ে কমবে কৃষি ও সেবার অবদান।

ড. মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, 'জবলেস গ্রোথের একটা পর্যায়ে আমরা চলে যাচ্ছি। প্রবৃদ্ধির গুনগত মান নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। কোন ক্ষেত্র থেকে প্রবৃদ্ধি আসছে। সেখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে কি না? এবং যে ক্ষেত্রতে আগামীতে চাহিদা হবে, সে ক্ষেত্র থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসছে কি না?'

আইএমএফের হিসাবে বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ।সুত্র: চ্যানেল ২৪

Comments

comments