সোনাগাজীতে ফণীতে ক্ষতিগ্রস্থ ৭৫টি বাড়ি, রুচিয়া খাতুনের ‍আহাজারি

প্রতিবেদক :

রুচিয়া খাতুন। বয়স ৬০ বছর। শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে নিঃস্ব হয়েছে তার সংসার। তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ সাপের মত শো শো শব্দে প্রচন্ড ঝড় এসে তার বসত বাড়িটি লন্ডভন্ড করে দেয়। ঘরের নিচে চাপা পড়ে তার ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যায়। এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে অঝোরে কাঁদছেন।

রুচিয়া খাতুন জানান, নিজের কোন জমিজমা না থাকায় সরকারি অল্প জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ৫ বছর আগে ঋণ নিয়ে সেখানে একটি বসত ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ফণী তার সেই সাজানো সংসার শেষ করে দিয়েছে। গত চার বছর আগে তার এই বসত ঘরে সাপের কামড় নিহত হয়েছিলেন তার স্বামী শেখ ফরিদ।
এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার।
দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছে তারা থাকে স্বামীর বাড়িতে।একমাত্র ছেলে নদীতে মাছ শিকার করে চলে তাদের পরিবার।
স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলনকে অবহিত করা হলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ফেনীতে শনিবার ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ৭৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চর দরবেশ ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ধান গবেষণা সংলগ্ন এলাকায় রুচিয়া খাতুন, আবু সুফিয়ান, বেলাল হোসেন, মো. মোস্তফা, লাইলী আক্তার, বেবি আক্তার, রিয়াজুল হক, জান্নাতুর লাহের, আনিছুল হক, আলাউদ্দিন, নুরের নবী, আবুল কাশেম, রেজাউল হক বসতঘর ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এদিকে একই ইউনিয়নের জলদাস পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মোদন মোহন দাস, হর মোহন দাস, যুধিষ্ঠির জলদাসের ঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ছাড়াও এলাকার আলম নামের আরো একজনের দোকান ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায় ঝড়ো হাওয়া।

ফণী’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক ও ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসি রাশেদুজ্জামান বলেন, ৭টি বসত ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ৬৮টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ১৫’শ একর ফসলি জমির ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে। ওই আলোকে পরবর্তীতে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। বাকিদেরও সহযোগিতার চেষ্টা চলছে।

Comments

comments