ব্রেকিং নিউজ

সারাদেশে ফণীর আঘাতে নিহত ১৪

 

প্রতিবেদক:

ঘূর্ণিঝড় ফণী আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ঝড়ের বিপৎসঙ্কেত কেটে গেছে জানানো হলেও গতকাল দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির সময় বজ্রাঘাত এবং আজ শনিবার এর আঘাতে ঝড়ো হাওয়ায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন। আজ শনিবার মারা গেছেন ৪জন এবং সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলায়। এই জেলায় বজ্রপাতে ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ভোলা
আজ শনিবার সকালে ভোলা সদরে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে ঘর ভেঙে চাপা পড়ে রানী বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত রানী বেগম ওই এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী।

লক্ষ্মীপুর
ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলগী গ্রামে আনোয়ারা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে ঝড়ে নিজ ঘরের কাঠ গায়ের ওপর পড়লে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক।

নোয়াখালী
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে আম কুড়াতে গিয়ে ঝুমুর (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশু মারা গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঝুমুর ওই এলাকার আবদুল হামিদের মেয়ে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস।

এছাড়া সূবর্ণচরে শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশু ইসমাইল (২) একই ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার তীব্র বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে শুক্রবার আহত মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমান মুসুল্লি (২৫) আজ শনিবার বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের মনসাতলী এলাকায় রাত ১১ টার দিকে গাছের ডাল ভেঙে পড়লে তিনি আহত হন বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান।

বাগেরহাট
বা‌গেরহা‌টের রণ‌জিৎপু‌রে দমকা হাওয়ায় গা‌ছের ডাল ভে‌ঙে প‌ড়ে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তার নাম শাহারুন বেগম (৫০)। শুক্রবার দুপুরে বা‌ড়ি‌তে ধা‌নের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, ইটনা ও পাকুন্দিয়ায় বজ্রাঘাতে শিশুসহ ছয়জন মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২ থেকে সাড়ে ১২টার দিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে ওই চারজন মারা যান।

মিঠামইনে ঝড়-বৃষ্টির সময় বাড়ির সামনের হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে সুমন মিয়া নামে সাত বছরের শিশু নিহত হয়। এ সময় গরুটিও মারা যায়। অন্যদিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের বিরামচর গ্রামের সামনের হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যায় মো. মহিউদ্দিন (২২)। ইটনায় ধান কাটার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে রুবেল দাস (২৬) নামে আরেক যুবক মারা যায়।

অন্যদিকে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে আসাদ মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোষাকান্দা গ্রামে বজ্রাঘাতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। চর ফরহাদি ইউনিয়নের চর আলগীর মৃত হালিম উদ্দিনের মেয়ে নুরুন নাহার ও ইন্নস আলীর ছেলে মজিবুর রহমান (১৭) মারা যান। তারা পথচারী ছিলেন। গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস।

নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওড়ে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আবদুল বারেক (৩৫) নামে এক কৃষক মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রমিজুল হক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বজ্রাঘাতে আপেল মিয়া (২০) নামে এক কৃষক নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বগডহর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত রায়।
পাঠকের মতামত

Comments

comments