ব্রেকিং নিউজ

দিনাজপুরে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


পারভেজ রানা
লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে দিন দিন লিচু চাষ বাড়ছে। প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে লিচু চাষের জমির পরিমাণ। এখন সারা দেশে কম বেশি লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা । রসালো ফল লিচু অনেকের কাছে ‘রসগোল্লা’ হিসেবে পরিচিত। এবার মধুমাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার প্রতিটি লিচু গাছে শোভা পা”েছ থোকায় থোকায় মুকুল।লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এবার পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে লিচু রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লিচুর ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই জেলাতে লিচু চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে ও প্রকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে বলে তাদের আশা।দিনাজপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের স‚ত্র মতে, এবার দিনাজপুর জেলায় ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হবে।জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি বছরে দিনাজপুর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। এবার দিনাজপুরের লিচু পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে রফতানি করা হবে। ইতোমধ্যে লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা হ”েছ বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবার ফলন ভালো হবে।দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি,কাঠালী উলে­খয্যেগ্য। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকার কারণে এবার এসব প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙ্গিনার লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের সঙ্গে ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হতে শুরু করেছে।লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু নামানো পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুকুলকে টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করে চলছেন। এছাড়াও মুকুল যাতে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দেয়া হ”েছ।দিনাজপুরের যেসব ¯’ানে লিচু চাষ হয় তার মধ্যে সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, খানসামা উপজেলা বিখ্যাত। নবাবগঞ্জের লিচু চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, লিচুর ফুল আসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পরিচর্যা শুরু করে দিতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। লিচু গাছগুলোতে ফুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন।দিনাজপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের জানায়, কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কোন সময়ে কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সে পরামর্শ দেয়া হ”েছ। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যেই লিচু চাষীদের নিয়ে উৎপাদন ও মান সম্মত লিচুর জন্য প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা পরিচর্যাসহ পরামর্শ দিয়ে যা”েছন। ৮ নং মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা জানান, মাহমুদপুর ইউনিয়নে উচু ও ফসলি জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সুসাদু লিচু চাষ হ”েছ। তিনি আরো জানান, মান সম্মত লিচু চাষ করে অনেকে ভাগ্যের উন্নয়নের চাকা ফিরিয়েছেন। ¯’ানীয় লিচু চাষী মোকলেছুর রহমান  ও ব্যবসায়ির জানান, বিক্রির ভাল পরিবেশ পেলে এ লাভজনক ফল চাষে অনেকেই ঝুকে পড়বে। কেননা লিচুর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে ধান গম, সরিষা সহ রবি শস্য উৎপাদন করা যায়।

Comments

comments