ব্রেকিং নিউজ

দায়িত্ব ফেলে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করব : মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেখানেও শান্তি ফিরে আসতে পারে বলে মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেক্ষেত্রে কেউ না পারলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি নিজে দীর্ঘকালীন এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হবেন বলে জানান মমতা।
বুধবার বিকালে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়িতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মমতা।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা আরো বলেন, ‘হবে না বলে পৃথিবীতে কোনো কাজ নেই, পারবো না বলেও কিছু নেই। আপনাকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যখন এরাজ্যে ক্ষমতায় আসি তখন জঙ্গলমহল কি ছিল? প্রতি বছর চার শতাধিক মানুষ মারা যেত। দিল্লির স্বার্থে দার্জিলিং-এর পরিস্থিতি কি ছিল? তারা চাইতো দার্জিলিং-এর আগুন জ্বলুক। দিল্লি থেকে কেবল পাম্প (উসকানি) করে। আমরা কি জঙ্গলমহলে সমস্যার সমাধান করিনি…?
এসময় মমতা বলেন, ‘আমরা যদি জঙ্গমহলের সমস্যা সমাধান করতে পারি, দার্জিলিং যদি শান্তিতে থাকতে পারে তবে কাশ্মীর ইস্যু সমাধানও সম্ভব। এখানকার মানুষের আস্থা নিয়েই এবং যারা যারা কনসার্নড ব্যক্তি আছেন তারা বসে নিশ্চয়ই এটাকে সমাধান করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বলি যে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান হতে পারে। শান্তি ফিরে আসতে পারে। কাশ্মীরের ছাত্র-যৌবন-মা-বোনদের আস্থা নিয়ে হতে পারে। কেউ না পারলে আপনারা আমাকে দায়িত্ব দিতে পারেন। আমি কোনো পজিশন (পদ) চাই না। আমি গিয়ে কিছুদিন কাশ্মীরে থাকবো এবং কাশ্মীরের মানুষ কি চায়-তা কথা বলে নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো যেন সমাধান হয়। আমার সে বিশ্বাস আছে। আমি সব সময় পজেটিভ, আমি কখনও নেগেটিভ হই না।’ 
১৯৯৯ সালে কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘যখন কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল-সে সময় যখন কেউ যেতে চাইছিল না। আমি তখন যশবন্ত সিংকে (তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছিলাম আমাকে পাঠিয়ে দাও-আমি যাচ্ছি, আমি গিয়ে তাদের নিয়ে আসছি-ওরা আমায় মারে মারুক। সেটা পরে যশবন্ত সিং একটা বৈঠকে এসে বলেছিল বলে আপনারা সে কথা জানতে পেরেছিলাম। আমি কোনো দিনই সে কথা কাউকে বলিনি।’
 
ইশতেহার প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র বাংলার জন্য। আমরাই ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ে তুলবো। অভিন্ন কর্মসূচি ভিত্তিতে কেন্দ্রে পরবর্তী সরকার গঠন করা হবে।’
 
দলের ইশতেহারে নারীদের ক্ষময়াতনের বিশেষ জোর, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) পুনর্বিবেচনা করা এবং এজন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা, ১০০ দিনের কাজ বাড়িয়ে ২০০ দিন করা, মনরেগা প্রকল্পের অধীন দৈনিক মজুরি দ্বিগুণ করা, কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া, কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, খেলাধুলায়-বিজ্ঞান-গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে।
 
মমতা জানান, তার লক্ষ্য গরিব মানুষকে বাঁচার অধিকার দেওয়া। এজন্য অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
 
কেন্দ্রের মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মোদির আমলে ২ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। বিদেশ থেকে কালো রুপি ফিরিয়ে আনা হবে বলেছিল, প্রত্যেকর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ রুপি দেওয়া হবে বলেছিল কিন্তু কিছু করা হয়নি।’
 
তার অভিযোগ, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে। কার স্বার্থে নোট বাতিল করা হয়েছে-সে প্রশ্নও তুলে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের দাবি হবে বলেও জানান মমতা।
 
মোদি-অমিত জুটিকে খোঁচা দিয়ে মমতার অভিমত, ‘দুই জনের নীতি মেনে গোটা দেশ চলছে। লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলীমনোহর যোশীদের মতো সিনিয়র নেতাদের দলে জায়গা নেই। ওরা সিনিয়র নেতাদের সম্মান দেয় না।’
 
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যুব কল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ক্রেতা সুরক্ষা ও উপভোক্তা মন্ত্রী সাধন পান্ডে, সাংসদ অভিষেক ব্যনার্জি, সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments