ব্রেকিং নিউজ

মামলায় সাক্ষীর ছেলেকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা


প্রকাশ:  ২৫ অক্টোবর ২০১৮
শরীয়তপু‌রের রাজনগরে না‌হিদ মালত (১৫) না‌মে এক শিক্ষার্থী‌কে রড দি‌য়ে পি‌টি‌য়ে হত্যা ক‌রে‌ছে দুর্বত্তরা। বুধবার সন্ধায় ন‌ড়িয়া উপ‌জেলার রাজনগর ইউ‌নিয়‌নের মহিষ খোলা স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘ‌টে। এ‌নি‌য়ে এলাকায় উ‌ত্তেজনা বির‌াজ কর‌ছে। যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষের আশংকায় অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ মোতায়ন করা হ‌য়ে‌ছে।

‌নিহত না‌হিদ রাজনগর ইউনিয়নের মালত কান্দি গ্রামের দিনমুজুর আলী হোসেন মীর মালতের ছেলে এবং স্থানীয় মহিষখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।

পু‌লিশ ও স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গাজী ও একই ইউ‌পির সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালতের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধ‌রে এলাকায় একাধিকবার হামলা মামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে অাওয়ামী লী‌গের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালতের সমর্থক স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন মাইকেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআডি পু‌লি‌শে তদন্তাধীন র‌য়ে‌ছে।

ওই মামলার সাক্ষী ও নিহ‌তের পিতা আলী হোসেন মীর মালত কয়েক দিন আগে সি.আই.ডির কাছে যুবলীগ নেতা হত্যাকা‌ন্ডের সাক্ষী দেন। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হ‌য়ে হুম‌কি ধাম‌কি দি‌য়ে অা‌সছিল। বুধবার সন্ধা সা‌ড়ে ৭ টায় দি‌কে সাক্ষী আলী হোসেন মীর মালতের ছেলে মোঃ নাহিদ মীর মালত (১৫) এলাকার মহিষ খোলা স্কুল মাঠে অাড্ডা দি‌চ্ছিল। হটাৎ করে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ‌সে নাহিদকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। প‌রে স্থানীয় লোকজন সহ‌যো‌গিতায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হ‌লে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহ‌তের পিতা দিনমজুর আলী হোসেন মীর মালত ব‌লেন, অামার ছে‌লে‌কে ওরা পি‌টি‌য়ে হত্যা ক‌রে‌ছে। কিছুর থে‌কে কিছু হ‌লেই পি‌টি‌য়ে হত্যা করাই যেন ও‌দের কাজ। অামার এখন কি হ‌বে, কে এর বিচার কর‌বে? অামরা এর বিচার চাই।

এ বিষ‌য়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, রাজনগ‌রে দীর্ঘ‌দিন ধ‌রেই দুগ্রু‌পের বি‌রোধ চল‌ছে। সন্ধ্যার পরে নাহিদ সহ ২/৩ জন যুবক মহিষখোলা মা‌ঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন লোক এসে নাহিদের উপর অাক্রমন করে আহত করে। পরে তা‌কে হাসপাতালে নেয়া হ‌লে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখ‌নো কেউ এ‌সে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌নি।

Comments

comments