ব্রেকিং নিউজ

তারেককে ফিরিয়ে আনতে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বৃটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে অবশ্যই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো, শাস্তি দিতে পারবো। সাজাটা কার্যকর করার জন্যও দেশবাসীর দোয়া চাই। 

গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, ভোটও চাই। যাতে পুনরায় ক্ষমতায় এসে এই অন্যায় অবিচারের বিচার করতে পারি। সাজাটা যেন আমরা কার্যকর করতে পারি তার জন্য দোয়া চাই।

নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন, যাতে ২১শে আগস্টের মতো সকল অন্যায়-অবিচার, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদকমুক্ত করে দেশের মানুষের শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে আমরা পিছপা হই না, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করি। তবে কেউ যদি জঙ্গি-সন্ত্রাস বা মাদক কারবার অথবা অশালীন উক্তি করে, আর মানুষ যদি বিচার চায়- সেই বিচার করাটাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্র সে বিচার করবে এবং করে যাচ্ছে। সেটা দেশবাসী দেখতে পাচ্ছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যা ও মানুষের ওপর অত্যাচার করা এটা তাদের (বিএনপির) স্বভাব।

জিয়াউর রহমান যেমন ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার স্ত্রী ও পুত্র ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওই মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাস্তি যখন পেয়েছে, যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, আল্লাহর ওপর আমার ভরসা আছে, মানুষের ওপর আমার বিশ্বাস আছে- নিশ্চয়ই একটা দিন আসবে। এ হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ আমার পরিবারের ১৮ জনকে হত্যা করা হয়। তখন খুনিদের বিচার না করে ইনডেমনিটি দিয়ে রক্ষা করা হয়, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। আমরা দু’বোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসি তখন বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায়। তখন অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে আমাদের রাজনীতি করতে হয়েছে। এরপর বারবার আমার ওপর গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সবশেষ আমাকে রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে শেষ করে দিতেই এই হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না। মামলার রায়ে সত্য ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পেরেছি এটাই বড় কথা। জাতীয় পার্টির বেগম রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসতে জনগণের ভোট-সমর্থন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আল্লাহর ইচ্ছাটাও বড়। ১৫ই আগস্ট আমার ১০ বছরের ছোট ভাইকেও কিন্তু রেহাই দেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধুর কোনো রক্ত যাতে বেঁচে থাকতে না পারে সেজন্য এমন ভয়াল হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মাত্র ১৫ দিন আগে বিদেশে যাওয়ায় আমরা দু’বোন প্রাণে বেঁচে যাই। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় এসে দেশ গড়ার কাজে হাত দিই। আমার জীবনের একটাই লক্ষ্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। জীবনে নিজে কি পেলাম বা পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, দেশের মানুষকে কি দিতে পারলাম, তাদের ভাগ্যের কতটুকু পরিবর্তন করলাম সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর একটানা ক্ষমতায় রয়েছি বলেই দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো এখন দৃশ্যমান হচ্ছে, যার সুফল দেশের জনগণ পাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু , কর্ণফুলী ট্যানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় মেঘা প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে। 

আজকে যারা রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দল জোট করে  নির্বাচনে আসবেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা আরো মজবুত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আরো বলেন, এখানে (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের যে কথাবার্তা, যা কিছু এখন মানুষ জানতে পারছে বা শুনতে পারছে, তাদের কেউ কেউ মানুষকে সম্মান করেই কথা বলতে পারছে না। বিশেষ করে একটা নারীবিদ্বেষী মনোভাব, মেয়েদের প্রতি অশালীন কথা বলা থেকে শুরু করে জোটের নেতাদের মুখে অনেক কিছুই শুনতে পাচ্ছি। তবে আমি আশাকরি, তারা সংযত হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করতে আমি পিছপা হই না, রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করি- এটাই বাস্তবতা। তবে যেউ যদি জঙ্গি-সন্ত্রাস বা মাদক অথবা কেউ অশালীন উক্তি করে, মানুষ যদি বিচার চায়- সেই বিচার করাটাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্র সে বিচার করবে এবং করে যাচ্ছে। 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ: এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে মশাল বঙ্গবন্ধু জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৪২ বছর আগে, তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিনে বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই প্রতিফলন ও স্বীকৃতি এটি। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন।  বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল সবুজের নিশান নিয়ে, আওয়ামী লীগ ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি’ বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জনগণকে সরকারের কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায় আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। 

Comments

comments