ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামে চুরির অপবাদ দিয়ে ২ কিশোরীকে গণধর্ষণ


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে মোবাইল চোর সাজিয়ে দুই কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার রাতে নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারের জলসা মার্কেটের নয় তলার ছাদে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। দুই কিশোরী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আবদুল আউয়াল ডালিম (৩০), চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে

মো. ফারুক (২৭), কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মকবুল হোসেনের ছেলে কবীর (২৭), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম (২৪) ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাবলু (২৮)। পলাতক দুই আসামি হলেন মো. রুবেল (২৫) ও এনামুল হক (২৬)। তারা সবাই রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিভিন্ন দোকানে চাকরি করেন, আর জলসা মার্কেটের পঞ্চমতলা থেকে অষ্টম তলায় ব্যাচেলর কক্ষে ভাড়া থাকেন। সেখানে এ ধরনের কয়েকশ কক্ষ রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জলসা মার্কেটের পঞ্চম তলায় এক কিশোরী (ধর্ষিতা) চাকরি করত। পাশের জয়ন্তী বোরকা হাউসের মালিক তাকে জানান, তার দোকানেও একটি মেয়ে দরকার। গত রবিবার ওই কিশোরী তার এক বান্ধবীকে নিয়ে জয়ন্তী বোরকা হাউসে যায়। কথা শেষ করে ফেরার পথে ডালিম ও সেলিম নামের দুই যুবক তাদের মোবাইল ফোন চোর সাজিয়ে করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। সন্ধ্যায় বিচারের নাম করে ডালিম ও সেলিমসহ আট যুবক তাদের ভবনের নয় তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে আটজন তাদের পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এদিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার দীর্ঘক্ষণ পরও ঘরে না ফেরায় বোরকার দোকানে চাকরি করা কিশোরীর মা রাত সাড়ে ১০টার দিকে জলসা মার্কেটে যান এবং সমিতির লোকজনদের সহায়তায় মার্কেটের ছাদে গিয়ে তার মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবীর খোঁজ পান। এ সময় দুজন অসুস্থ অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানান, গণধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৮ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য দুই আসামিও শিগগির ধরা পড়বে বলে আশা করছি।

Comments

comments