ব্রেকিং নিউজ

চাকরি না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যা!


খুলনা প্রতিবেদক :

সৈকত রঞ্জন মণ্ডল (২৫) পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়েছেন দুবছর হয়ে গেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত চাকরি পাননি। এ নিয়ে মারাত্মক হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসকও দেখিয়েছেন। কিন্তু হতাশা কাটেনি তার। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছেন। গত শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সৈকত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজিতে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবার নাম কৃষ্ণ মণ্ডল, গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল গেটের পূর্বপাশের একটি মেসের কক্ষে ভাড়া থাকতেন সৈকত। ডায়েরিতে সুইসাইড নোট লিখে ওই কক্ষেই ফাঁসিতে ঝোলেন তিনি। পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে সৈকতের পাশের ভবনের প্রতিবেশী জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে একজনকে ঝুলে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি অন্যদের জানান। এর পর সৈকতের রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে তার কক্ষের দরজা ভাঙা হয়। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত সৈকতকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ডায়েরির লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। স্থায়ী কোনো চাকরি না পাওয়ায় তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তার রুমে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কিত বিভিন্ন পুস্তক পাওয়া গেছে।

তার পরিচিত শিক্ষার্থীরা জানান, সৈকত দুবার বিসিএস পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার টেবিলের ড্রয়ারে পাওয়া প্রেসক্রিপশন থেকে অনুমান করা হচ্ছে, হতাশা থেকে রক্ষা পেতে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্নও হয়েছিলেন।

সৈকত কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত ডায়েরিতে তার হতাশার বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করেন। তার কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত ডায়েরির একটি পাতায় লেখা রয়েছে, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল চাকরি করবো, মার মুখে হাসি ফোটাবো। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেলো। মার শরীর খুব খারাপ। তবুও আমি খুলনা থেকে পড়ার কথা ভাবছি। বাড়িতে যেতে গেলে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে।

হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, সৈকতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

 

Comments

comments