ক্রিকেট খেলোয়ার থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠ- দুই মাঠেই সফল তারকা  ইমরান খান। যৌবনে ক্রিকেটের বাইশ গজে কাঁপিয়েছেন, আর পড়ন্ত বেলায় পুরো পাকিস্তানে সৃষ্টি করেছেন আলোড়ন। পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দল চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে ্ একেবারে দেশ চালানোর সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন হিসাবে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন পুরো পাকিস্তানকে। 

ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পেতে যাচ্ছে ১১৩ আসন। বিপুলভাবে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এককভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পাচ্ছে ৬৪ আসন। আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৪৩, এমকিউএম ৫, এমএমএ ৯  আসন পেয়েছে। সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজন ১৩৭ আসনে জয়। 

পিটিআই ছাড়া বাকি সব দল 'নজিরবিহীন কারচুপির' কথা জানিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনের প্রধান (সিইসি) মুহাম্মাদ রাজা খান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে।

ইমরান খান নিয়াজি পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তাঁর অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জয় করে।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ (এন), বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), মুত্তাহিদা মজলিস-ই–আমিল (এমএমএ) বুধবার রাতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করে।

রাতে সংবাদ সম্মেলনে পিএমএল-এনের সভাপতি শাহবাজ শরিফ নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে 'ব্যাপক অনিয়মের' অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, আমি সারা পাকিস্তান থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আজ যা ঘটেছে, তা পাকিস্তানকে ৩০ বছর পেছনে নিয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র মুশাহিদ হোসাইন সাইয়েদ বলেন, তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল সিলেকশন, এটি কোনাভাবেই ইলেকশন ছিল না।

পিএমএল-এনের অপর মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব অভিযোগ করেন, যেসব আসনে তাদের প্রার্থী জয়ের পথে ছিল, সেখানে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কাজ সম্পন্ন করা হয়।

পিপিটি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, আমার প্রার্থীরা অভিযোগ করেছে, তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

Comments

comments