ব্রেকিং নিউজ

ইমরান এইচ সরকারকে আমেরিকা যেতে বাধা

প্রতিবেদক :

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমরান এইচ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুক্রবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠার পর সেখান থেকে তাকে নামিয়ে আনা হয়। পরে আর তাকে বিমান উঠতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আমেরিকায় যাত্রা করছিলেন। শুক্রবার রাতে ইমরান এইচ সরকার সংবাদ মাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

ইমরান এইচ সরকার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ইয়থ ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আমেরিকা যাচ্ছিলেন। এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য তিনি বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বোর্ডিং পাশ নিয়ে তিনি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি বিমানের ভেতরে নিজ আসনে বসলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে সেখান থেকে ডেকে বের করে নিয়ে আসেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলেন। এরমধ্যে বিমান ছেড়ে যায়। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উপরের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানায়।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‌তারা সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ জানাতে পারেনি। পরবর্তীতে আমাকে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ইমিগ্রেশন বাতিল করার একটি আবেদনে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে রাজি না হলে পাসপোর্টে ডিপারচার অংশে কলম দিয়ে কেটে দিয়ে তাকে ছাড়া হয়।

ইমরান বলেন, ‘আজ আমার সঙ্গে যা করা হলো তা একটি অগণতান্ত্রিক আচরণ, নিপীড়নমূলক। আমি একটি ভালো কাজে যাচ্ছিলাম। কিন্তু নজীরবিহীনভাবে আমাকে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর আবার ফিরিয়ে আনা হয়। আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও নেই। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে ইমিগ্রেশনের সময় তারা আটকাতো। এরকম নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

ইমরান এইচ সরকারের ফেসবুক পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাসএর আগে ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক পেইজে এই ঘটনা নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন যে, 'আমেরিকান সরকারের U.S. Department of State এর আমন্ত্রণে অহিংস আন্দোলন, লিডারশিপ, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আজ ৪ সপ্তাহের জন্য আমার আমেরিকা যাবার কথা ছিল। আমি বোর্ডিংসহ ইমিগ্রেশন শেষ করে বিমানে উঠার সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে বাধা দিয়েছে। যদিও আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কিংবা মামলা নেই। ইমিগ্রেশন শেষ করার পর এ ধরনের বাধার ঘটনা নজিরবিহীন।'

এদিকে যোগাযোগ করা হলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করতে চাননি।সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

Comments

comments