ব্রেকিং নিউজ

বৃটেন-কানাডার পর ঢাকা থেকে ভিসা সেন্টার সরিয়ে নিল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বৃটেন ও কানাডার পর এবার ঢাকা থেকে ভিসা সেন্টার সরিয়ে নিলো অস্ট্রেলিয়া। আজ থেকে দেশটির এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার দিল্লি মিশন থেকেই এখন বাংলাদেশিদের ভিসা, ইন্টারভিউ এবং কনস্যুলার সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা দেয়া হবে।

এতে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কোনো হাত থাকছে না! এতদিন বাংলাদেশে থাকা দেশটির পূর্ণাঙ্গ আবাসিক মিশন থেকেই ভিসা দেয়া হচ্ছিল। যা একটি বেসরকারি ভিএফএস সেন্টারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হতো। 

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক অস্ট্রেলিয়ান ভিসা সেন্টার দিল্লিতে স্থানান্তর হওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, বৃটেন এবং কানাডার মতোই অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশিদের ভিসা পেতে কোনো সমস্যা না হওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। 

সচিব বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সেন্টার ঢাকা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নেয়া হলেও এতে সার্ভিসে কোনো হেরফের হবে না বলে বাংলাদেশ সরকারকে তারা আশ্বস্ত করেছেন। 

বৃটেনের ভিসা সেন্টার দিল্লিতে সরিয়ে নেয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে লন্ডনের তরফে বাংলাদেশিদের ভিসা পেতে কোনো সমস্যা তো নয়ই বরং আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং সক্রিয় সার্ভিস দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। বৃটেনের ভিসা পেতে এখন তেমন সমস্যার কথা শুনা যায় না বলে দাবি সচিবের। 

ভিসা কেন্দ্র তথা কনস্যুলারের কার্যক্রম দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতিনিধিরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আগে থেকেই আলোচনা করছেন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন- এটি তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংকোচনের জন্য করা হয়েছে বলে ঢাকাকে জানানো হয়েছে। 

ঢাকার তরফে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ ছিল। কিন্তু দিল্লিতে সমন্বিত ভিসা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যেখানে এ অঞ্চলের অনেক দেশের আরো উন্নত সেবা পাওয়ার কথা বলে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, অস্ট্রেলিয়ার তরফে বাংলাদেশকে এ-ও বলা হয়েছে, ১৯শে জুলাই থেকে দিল্লিস্থ অস্ট্রেলিয়ান মিশনেই বাংলাদেশিদের ভিসার সমস্ত কার্যক্রম স্থানান্তর হচ্ছে। 

সেখান থেকেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ঢাকায় আবেদনকারী বাংলাদেশি ভিসা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রয়োজন হলে দিল্লি থেকেই অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা আসবেন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন। ভিসা বা অন্যান্য কনস্যুলার কার্যক্রমে ঢাকায় থাকা অস্ট্রেলিয়ার আবাসিক মিশনের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। তবে ভিসা কেন্দ্রের এ পরিবর্তন বা স্থানান্তরে বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবায় তেমন প্রভাব পড়বে না দাবি করে দেশটির নোটে বলা হয়েছে- বাংলাদেশিরা আগে যেভাবে সেবা পেতেন এখনও সেভাবেই সেবা পাবেন। 

ঢাকায় পাঠানো ওই নোটে ক্যানবেরার তরফে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা তথা কনস্যুলার সার্ভিসে আরো পরিবর্তনের আভাস দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- ভিসা কেন্দ্রের অবস্থান কোথায় থাকছে তা মুখ্য হবে না। কারণ অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই যেকোনো দেশের নাগরিক দেশটি ভ্রমণে পড়াশোনা বা স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে পাসপোর্টে ভিসা-স্টিকার লাগানো হয়। এ ব্যবস্থা তুলে দেয়া হচ্ছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সরকার সর্বত্র ইলেক্ট্রনিক ভিসা বা ই ভিসা প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হয়ে গেলে কোনো বাংলাদেশির পাসপোর্ট দিল্লি পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। 

তারা ঘরে বসেই ই-মেইলে বারকোডসহ ভিসা পাবেন। তবে এ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে সেগুনবাগিচা তথা বাংলাদেশি কূটনীতিকদের। অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ আচমকা সিদ্ধান্ত জনমনে বিভ্রান্তি এবং ভিসা প্রার্থীদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।

Comments

comments