শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত, প্রক্টরকে অব্যাহতি


 ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের তিন শিক্ষককে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহিদুল কবিরকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভূইয়া ইলা, সহকারী অধ্যাপক নীলা সাহা, প্রভাষক নুসরাত শারমিন তানিয়াকে দীর্ঘদিন যাবত সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিন বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। গায়ে হাত দেওয়াসহ সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণভাবে ছবি এডিট করে পাঠানো হতো।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে যৌন হয়রানির শিকার ওই তিন শিক্ষিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন তিনি।

এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে তার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হককে প্রধান করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর একেএম জাকির হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়াকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।


 
ইসমত আরা ভূইয়া ইলার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রুহুল আমিন আমাকে ও দুই সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করে আসছিল। তাই অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, আমাদের বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ইলা ম্যাডাম তার হাসবেন্ডসহ কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবৎ আমাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছিল। একাডেমিক সভায় ভালো রেজাল্টধারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তি ক্ষোভে মাস্টার্সে ফেল করিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করতে চেয়েছিল বিভাগীয় প্রধানসহ কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ। বিভাগীয় প্রধানের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তিনি এবং তার সাথের দুই জন নারী শিক্ষিকা যোগসাজস করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাহিদুল কবীর বলেন, ‘আমাকে কী কারণে অব্যহতি দিয়েছে আমি জানি না। তবে আমি ঘটনা শুনার পরপরই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে তাকে বাসায় পায়নি। পরে আমি ফোনে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে বলেছি।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির অভিযোগে নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ভিকটিমদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Comments

comments