‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও ৫ জন নিহত

প্রতিবেদক :

কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারটি নিহতের ঘটনা ঘটেছে পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও বনদস্যুদের গোলাগুলির সময়, বাকি ১টি দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির সময়। চাঁদপুর, খুলনার কয়রা এবং ময়মনসিংহে এ ঘটনা ঘটেছে। 

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার পূর্ব শ্রীরামদীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. ইউনুছ মিয়াজী ওরফে সুমন (৩৫) নামে মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। একই সময় আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে ১০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গুলি, ২টি ছোরা ও ১টি চাপাটি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে ২টায় পুরানবাজার স্টার আলকায়েদ জুট মিলসের দক্ষিণ পাশে বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুছ পুরানবাজার মধ্য শ্রীরামদী বউবাজার এলাকার মিয়াজী বাড়ির মৃত আবদুল মাজিদ মিয়াজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় ৮টি মাদক মামলা রয়েছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানায়, মাদকের একটি বড় চালান লেন-দেন হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে ঘটনাস্থলে ইউনুছ গুলিবিদ্ধ হন। বাকি মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালী উল্যাহ ওলি জানান, ইউনুছকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাত আড়াইটায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।

ময়মনসিংহ : গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমতলব গ্রাম থেকে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গফরগাঁও থানার ওসি আবদুল আহাদ জানান, গতকাল গভীর রাতে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গোলাগুলিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, রাতে মাদকের ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সকালে স্থানীয়রা লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশের পাশে ইয়াবা, চাপাতি ও রামদা পেয়েছে।

খুলনা : কয়রায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কালু বাহিনীর প্রধান সাঈদ মোড়ল ওরফে কালু (৪৭) এবং তার দুই সহযোগী নিহত হয়েছেন। বনদস্যু কালু কয়রা উপজেলার অর্জুনপুর গ্রামের মৃত শামছুল মোড়লের ছেলে। সুন্দরবনের ময়দা পেশা খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অপর দুই বনদস্যু হচ্ছে কয়রার গিলাবাড়ি গ্রামের দলিল গাজীর ছেলে আকবার আলী (৩৪) ও রামপাল হোগলাডাঙ্গা গ্রামের জব্বার মল্লিকের ছেলে শহিদুল মল্লিক (২৭)। পুলিশ বনদস্যুদের কবল থেকে অপহূত ৪ জেলেকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সুন্দরবনের মঠবাড়িয়া এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে এই ৪ জেলেকে অপহরণ করে কালু বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়রা থানার ওসি মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ গতকাল বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবনের ময়দা পেশা খাল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের পর বনদস্যুরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৩ বনদস্যুকে আটক করে। এ ছাড়া ২টি দেশি তৈরি পিস্তল, ১টি দোনালা বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। পরে গুলিবিদ্ধ ৩ বনদস্যুকে কয়রা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই রাজিউল আমিন, গোলাম আযম, কিশোর কুমার বিশ্বাস, এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সদস্য শওকত হোসেন, হারিজ মোল্লা, আ. সামাদ, মোখলেছুর রহমান আহত হন। পুলিশ বনদস্যুদের কবল থেকে ৪ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে। তারা হলেন কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকার হাবিবুর, রাজু, মফিজুল ও মজিবার।

Comments

comments