ব্রেকিং নিউজ

ঢাকাসহ সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধ, ১০ মাদক ব্যাবসায়ী নিহত


প্রতিবেদক :
 
ঢাকাসহ সাত জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্হানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ঢাকায় একজন, কুমিল্লায় ২, ময়মনসিংহে ১, যশোরে ২, সাতক্ষীরায় ১, কুষ্টিয়ায় ২ ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন রয়েছেন।

ঢাকা: রাজধানীর দক্ষিণখানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সুমন ওরফে খুকু সুমন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌঁনে ১টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি ওয়ান সুটার গান পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা: কুমিল্লর মুরাদরগর উপজেলায় পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, তারা মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত।  গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গুঞ্জর এলাকায় গোমতী প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে ভাই ভাই ব্রিক ফিল্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- লিটন ওরফে কানা লিটন (৪৩) উপজেলার পৈয়াপাথর এলাকার আবদুস ছামাদেও ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৭টি মাদকের মামলা রয়েছে। বাতেন (৩৪) একই উপজেলার বাখরনগর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মাদকের মামলা রয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তিনিসহ পুলিশের একটি দল মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জুর এলাকায় গোমতী বাঁধের পাশে অবস্থান নেন। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী কানা লিটন ও বাতেনসহ তাদের সহযোগীরা পৌঁছলে তাদের আটকের চেষ্টাকালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষায় ৫৩ রাউন্ড শাটগানের গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গুলি বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী লিটন ও বাতেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ওই অভিযানের সময় থানার এসআই মোজাম্মেল, এএসআই রোকন ও এএসআই মাসুদুর রহমান আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ: জেলার ভালুকা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মিজান (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত মিজান ব্যক্তি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে উপজেলার পাড়াগাঁও চটনপাড়া সামাদ ফকির বাড়ীর পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, কিছু মাদক ব্যবসায়ী ভালুকা উপজেলার ওই এলাকায় মাদক ভাগাভাগি করছে। এমন খবরে জেলা ডিবি পুলিশ ভালুকা মডেল থানা পুলিশকে নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মিজান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বন্ধুকযুদ্ধে ভালুকা থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ, এএসআই শাহ আলম আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, তিনটি গুলির খোসা, ১টি রামদা, ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
যশোর: যশোর শহরে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহত দুজনই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছেলে মানিক (২৭) চাঁচড়া এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে। অপরজন হলেন- আহসান আলী (৫৬) সদর উপজেলার মণ্ডলগাতি গ্রামের জাহান আলীর ছেলে। যশোর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, মানিকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় ৯টি ও আহসান আলীর বিরুদ্ধে ১১টি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি দেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫টি গুলির খোসা এবং ৬শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা: জেলার কলারোয়া উপজেলায়  মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পিছলাপুর এলাকায় পাকা রাস্তা সংলগ্ন মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনিছুর রহমান উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত, ছুরাত আলী গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, আনিছুরের মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
কুষ্টিয়া: জেলার দৌলতপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতরা চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় ৮টি মামলা রয়েছে। নিহতরা হলেন- মুকাদ্দেস আলী (৪২) ও ফজলুর রহমান ওরফে টাইটেল (৪৮)।
পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে।
দৌলতপুর থানার ওসি মাহ দারা খান পিপিএম জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা টাকা ভাগাভাগি করছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালায় তারা। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পাল্টা গুলি চালালে আহত হয় মুকাদ্দেস ও ফজলুর রহমান। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও বন্দুকযুদ্ধে এক নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ওই ব্যক্তি চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী।সুত্র:আমাদের সময়

Comments

comments