ব্রেকিং নিউজ

সামরিক খাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়েছে পাকিস্হান, ভারতের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তান সম্প্রতি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কারণ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।

গত মাসের শেষে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় সামরিক খাতে বরাদ্দ ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। প্রতিরক্ষা খাতের এই বরাদ্দের পরিমাণ অনেক এবং এটা বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সাথে তাদের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

দুটো দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং বিশেষজ্ঞরা যেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেটা হলো ইসলামাবাদের অতিরিক্ত বরাদ্দ পারমাণবিক কর্মসূচিতে কাজে লাগানো হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতাকে জলসীমায় ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন করা হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবেরি ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক শারাদ যোশি বলেন, “নয়াদিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। বিশেষ করে ইসলামাবাদ যখন বিশেষভাবে পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে জলসীমায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুজ মিসাইল বহর গড়ে তোলার জন্য তাদের যে আকাঙ্ক্ষা, সে কারণে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত”।

প্রতিরক্ষা খাতে দেশটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ দিয়েছে এক ট্রিলিয়ন রুপি। এবারই প্রথম পাকিস্তানের বাজেট ট্রিলিয়ন রুপির কোটা ছাড়িয়ে গেল।

মুসলিম লীগ-এনের চলতি মেয়াদে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ ছাড়া পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মুসলিম লীগ-এন সরকারের অস্বস্তিকর সম্পর্ক থাকার পরও বাজেট বাড়ানোর ঘটনাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে সামরিক খাতে পাকিস্তানের বরাদ্দ ছিল ৬০০ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় গত পাঁচ বছর পর এবার ৮৪ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে।
মোট বরাদ্দের মধ্যে পাক সেনাবাহিনী পাচ্ছে ৪৭ শতাংশ, বিমানবাহিনীর জন্য বরাদ্দ ২০ শতাংশ এবং নৌবাহিনীর জন্য ১০ শতাংশ থাকবে।

এমন সময় এই সংবাদ আসলো যখন বাজেট সঙ্কটে ভুগছে ভারতের সেনাবাহিনী। তাদের গোলাবারুদের রিজার্ভেও ঘাটতি রয়েছে এবং ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট অর্থও নেই। যদিও সরকার চায় যে তাদের সশস্ত্র বাহিনী একই সাথে পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করুক।

একই সাথে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানোর ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর এজেন্ডা রয়েছে। গত মাসে ভারতীয় বিমান বাহিনী তাদের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে। পাকিস্তান ও চীন উভয় দিক থেকে হুমকির বিষয়টি মাথায় রেখেই এই মহড়া চালানো হয়েছে।

Comments

comments