ভারতকে ওআইসির পর্যবেক্ষক করার প্রস্তাব বাংলাদেশের, বিরোধিতা পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের মতো মুসলিম জনসংখ্যাবহুল দেশকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সাথে সম্পৃক্ত করার তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশ। এটিকে ভারতকে ওআইসির পর্যবেক্ষক করার পরোক্ষ প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তান এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে।

শনিবার (৬ মে) ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভার (সিএফএম) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ওআইসির সদস্য নয় এমন অনেক দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিপুল মুসলিম রয়েছে। এসব দেশে মুসলমানেরা সংখ্যালঘু হতে পারে, তবে সংখ্যার দিক থেকে তারা অনেক ওআইসিভুক্ত দেশের জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওআইসির ভালো কাজগুলো থেকে এই বিপুল মুসলিম জনগোষ্ঠী যাতে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সংস্থার বাইরে থাকা এসব দেশের সাথে সেতুবন্ধন রচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য ওআইসির সংস্কার ও পুনর্গঠন দরকার। তিনি বলেন, বর্তমান যুগ ও ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে ওআইসির কাজ, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া আমাদের পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী ভারতে মুসলমানের সংখ্যা ১৭ কোটি ২০ লাখ। এখন তা ১৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান ছাড়া ওআইসিভুক্ত আর কোনো দেশে এর চেয়ে বেশি মুসলিম নেই। বর্তমানে ওআইসির পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নর্দান সাইপ্রাস, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং বসনিয়া হারজেগোভিনা। মূলত পাকিস্তানের বিরোধিতার কারণে ওআইসির পর্যবেক্ষক হতে পারেনি ভারত।

এ ব্যাপারে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ইন্দ্রানি বাগচি লিখেছেন, ভারতের মতো দেশকে ওআইসিতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান এটিই প্রথম নয়। তবে পাকিস্তান বরাবরই ভেটো অবস্থানে রয়েছে। গত দশকে ইসলামি বিশ্বের সাথে ভারতের সম্পর্কে ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ ভারতকে ওআইসির পর্যবেক্ষক করার প্রস্তাব দেন। তবে তার বাস্তবায়ন হয়নি। জম্মু ও কাশ্মির ইস্যুতে ভারতকে আঘাত করার জন্য পাকিস্তান ওআইসিকে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে।

Comments

comments