সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক


প্রতিবেদক :

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করে রাখার পর শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী হাজারো তরুণকে লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে শতাধিক আহত হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন আন্দোলনকারীর নিহতের খবর জানা গেছে।

ব্যাপক পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে আজ সোমবার থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই শতাধিক পুলিশ পাবলিক লাইব্রেরির গেটের সামনে অবস্থান নেয়। শাহবাগের চারুকলা থেকে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছে। আন্দোলনকারিদের পিছু হট‌াতে এর আগে পুলিশ সাজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে ধাওয়া করে। আন্দোলনকারীদের চারুকলার সামনে থেকে পিছু হটিয়ে দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা কিছুক্ষণের মধ্যেই আগের স্থানে ফিরে এসে শ্লোগান দিতে থাকে।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাইক হাতে বারবার শিক্ষার্থীদের পিছু হঠানোর আহ্বান জানাতে থাকেন। এই মুহুর্তে চারুকলা ও ছবিহাটের মাঝের সড়কে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় টায়ার পোড়াচ্ছে। পুলিশ টিয়ারশেল ছুঁড়ছে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে আগুন জালাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। সেখানে পুলিশ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব ৫০ গজ।

কমপক্ষে ৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। রাত ১১টার দিকেও শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। চারুকলা থেকে টিএসসি পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। পুলিশ চারুকলা গেটের সামনে থেকে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর এ একে এম গোলাম রব্বানি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে পিছিয়ে যেতে বলেন। তিনি পুলিশকে ঢাবি সীমানা থেকে ফিরিয়ে আসতে বলেন। তবে পুলিশ যখন পিছিয়ে যাচ্ছিল তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ আবারও তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে।

আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। পুলিশের টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলিতে আমাদের শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে। আমরা এ হামলার নিন্দা জানাই।’

আল মামুন আরও জানান, তারা এখন চারুকলার সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে শাহবাগ থানার সামনে থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে।

আজ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাটিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা শুরু করে পুলিশ। এরপরই ফাঁকা হতে শুরু করে শাহবাগ। ছত্রভঙ্গ করে দেয়ায় শাহবাগ পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে এগিয়ে আসলে পুলিশ শর্ট গানের গুলি ছুঁড়ে তাদের টিএসসির দিকে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় এক জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছে পুলিশ।

সংঘর্ষে  প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফুর রহমান, ইউএনবির প্রতিনিধি ইমরান হোসেন এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি তারেক হাসান নির্ঝর ও কালের কণ্ঠ’র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান আহত হন।

Comments

comments