ব্রেকিং নিউজ

আসন ভাগাভাগি নিয়ে ২০ দলে হঠাৎ তৎপরতা

প্রতিবেদক :

কারাবন্দি হওয়ার পর পর জোট নেতাদের সব আবেগ-অনুভূতি ছিল খালেদা জিয়াকে নিয়ে। নির্বাচনের আগে তাকে মুক্ত করাই ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মূল টার্গেট। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দির কয়েক মাস পার হওয়ার পর জোট শরিকরা তাদের কয়টি আসনে ছাড় দেওয়া হবে এই নিশ্চয়তা চাচ্ছেন। তবে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে হঠাৎ জোট নেতাদের নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া এবং আসনের নিশ্চয়তা বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিএনপি মনে করছেন, এর পেছনে তৃতীয় পক্ষের হাত রয়েছে। এর সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. সফিকুর রহমানের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টিতে নানা সন্দেহ দানা বাঁধছে। খোদ জামায়াতের মধ্যেও তার জামিন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বাস্তবতায় আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে যে অবস্থায় থাকুক না কেন বিএনপি এবং জোট নেতারা মনে করছেন, তাদের মধ্যে ঐক্য অটুট আছে। কোনো ধরনের কোন্দল নেই। তবে পেছন থেকে একটি পক্ষ নানাভাবে শরিকদের প্রলোভন দিচ্ছে। এতে লাভ হবে না।
জোট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলে যাওয়ার আগেও বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি জোট নেতাদের ধারণা ছিল, খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ দু-চার দিন কারাগারে থাকতে হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন পুরো বিপরীত। এই অবস্থায় জোট নেতাদের মনোবলও আগের মতো নেই। বিএনপির এই সংকটকালকে জোট নেতারা পুঁজি করে তারা তাদের আসনের নিশ্চয়তা চায়। তারা মনে করে, বিএনপির এই সংকট কেটে গেলে জামায়াত ছাড়া বেশিরভাগ শরিক দলই বিএনপির কাছে ‘মূল্যহীন’ হয়ে যাবে। তাই তারা আসন ভাগাভাগির ফয়সালা এখনই করে নিতে চান। সম্প্রতি জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ৩০ আসনের একটি তালিকা করেছে। ১২ আসনের তালিকা করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। এ ছাড়া জামায়াত ৭০, বাংলাদেশ ন্যাপ ১৪টি, খেলাফত মজলিশ ২, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ৫টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জোটের শরিক অন্য দলগুলোও তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ করছে।
জানতে চাইলে, জাগপার সাধারণ সম্পাদক লুৎফর  বলেন, তারা তাদের প্রার্থী তালিকা দলগতভাবে চূড়ান্ত করছেন। কিন্তু আজ শনিবার জোটের বৈঠকে যদি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় তারা তাদের দলের অবস্থান তুলে ধরবেন। তবে তার দলের প্রথম এজেন্ডা খালেদা জিয়ার মুক্তি।
এ অবস্থার মধ্যে গত বুধবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. সফিকুর রহমান কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এই নিয়ে গুঞ্জনের নানা ডালপালা বিস্তার করেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া  বলেন, আমাদের এখন খালেদা জিয়ার মুক্তিই মূল ইস্যু। যেহেতু সামনে নির্বাচন এই নিয়ে কথাবার্তা চলতেই পারে।
তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের মুক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের সেক্রেটারির মুক্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের সেক্রেটারি জেনালের মুক্তি পাওয়া নিয়ে তারাও অস্বস্তিতে আছেন। অনেকেই প্রশ্ন করছেন বিএনপি ছেড়ে আপনারা কি সরকারের দিকে যাচ্ছেন? কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারছি না।’ এই নিয়ে বিএনপি একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছে তথ্য আছে সরকারের জোট ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে শেখ হাসিনার অধীনে নামমাত্র নির্বাচনে অংশ নিতে নানাভাবে জোট নেতাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই জোট নেতারা নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
জোটের এক নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চাপ আমাদের ওপরও আছে। কিন্তু আমাদের দলের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার পর তার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মুক্তি না পেলে পরে আবার দল সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, কিছুদিন আগেও লেবার পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়। সেখানেও ষড়যন্ত্র হয়েছে। ছোট ছোট অন্য দলেও ভাঙনের চেষ্টা চলছে। তবে ভগ্নাংশ দুই দলই একে অন্যকে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ আনছে। অবশ্য কয়েক দিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘সরকার ২০-দলীয় জোট ভাঙার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের জোট অটুট রয়েছে। জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র কখনই সফল হবে না।’
বিএনপি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে ও পরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে বিএনপি-প্রধানের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এই দুঃসময়ে জোটের মধ্যেও সব ভুল বোঝাবুঝি দূর করে একতাবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তও হয়। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘একাদশ নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের গুজব আমরা শুনছি। তবে আমরা তো বিএনপি জোটে আছি। নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। সময়ই সব বলে দেবে।সুত্র-আমাদের সময়

Comments

comments