ব্রেকিং নিউজ

নাশকতার মামলায় খালেদা শোন অ্যারেস্ট


প্রতিবেদক :

কুমিল্লায় নাশকতার এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোন অ্যারেস্ট হয়েছেন। অন্যদিকে বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা রাজধানীর তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার দুই মামলায় ‘হাজিরা পরোয়ানা’ জারি করা হয়েছে। এর ফলে ওই দুই মামলার ধার্য তারিখে তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতির এই দুই মামলায় পরোয়ানা জারি করা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, নাশকতার এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ২০০৭ ও ২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার দুর্নীতির দুই মামলার ‘হাজিরা পরোয়ানা’ হাতে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ৪ মার্চ আদালতে তাকে হাজির করতে হবে।
এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অন্য মামলায় হাজিরা পরোয়ানা জারির ফলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি বিলম্ব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১১ ফেব্রুয়ারি আমাদের সময়ের শীর্ষ সংবাদে বলা হয়, বেগম জিয়ার কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে। গতকালও কয়েকটি গণমাধ্যমে একই সংবাদ এসেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মনেও এ ধরনের শঙ্কা এসেছে। গ্রেপ্তার দেখানোর মাধ্যমে সেই শঙ্কাই সত্য হলো।  
বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার আরও মামলা আছে। এসব মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হতে পারে। তারা বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকে কারাগারে আটকে রাখা। সে জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করা হতে পারে।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আমাদের সময়কে বলেন, বেগম জিয়া গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় জামিনে আছেন। যেহেতু তিনি কারাগারে আছেন, তাকে আদালতে উপস্থিত হতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এটি সরকারের চরম প্রতিহিংসার বহির্প্রকাশ। সরকার বেগম জিয়াকে শুধু সাজা দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, এখন তাকে পুরনো মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনকে আটক রেখে নির্বাচন করতে চায়। তিনি বলেন, আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না।
সুপ্রিমকোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বেগম জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে এমনটি করা হচ্ছে। আমরা আইনিভাবে এসব মোকাবিলা করব।  
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন হত্যার ঘটনায় মামলায় কুমিল্লার আদালত গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম জয়নব বেগম এ আদেশ দেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতে ওই মামলার বিচারকাজের দিন ধার্য করা হয়েছে। খালেদা জিয়া মামলার ৫১ নম্বর আসামি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় আসামাত্র দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেওয়ার দুদিন পর আরও একজন মারা যান। পরদিন রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। ৭৭ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যান, ৫ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। আর খালেদা জিয়াসহ অপর ৬৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ। গত মঙ্গলবার আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। এদিন আদালতে ২০ আসামি উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়াসহ অনুপস্থিত অপর ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওই পরোয়ানায় খালেদা জিয়াকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি এখন ঢাকার এখতিয়ারে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। অন্য মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্যাটকো মামলা : ঢাকার কমলাপুরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্যাটকো নামে একটি কোম্পানিকে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি হয় ২০০৭ পরবর্তী সেনা-সমর্থিত সরকারের সময়।
বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলা : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে দায়ের করা এই মামলার অভিযোগ ছিলÑ চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি শর্ত ভেঙে সরকারের চোখের সামনে অতিরিক্ত এলাকায় কযয়লা খনন করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে এবং খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। গ্যাটকো এবং বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলায় পুলিশ এখনো চার্জশিট  দেয়নি।

Comments

comments