কাবুলে সামরিক একাডেমিতে জঙ্গি হামলায় ১১ সৈন্য নিহত, হামলার বদলা নেব: আফগান প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি সামরিক একাডেমিতে জঙ্গিদের হামলায় ১১ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে গত নয়দিনে কাবুলে চতুর্থবারের মতো বড় ধরনের হামলা চালালো জঙ্গিরা, এতে আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত আরো আক্রমণাত্মক একটি কৌশল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোমবার ভোর ৫টার দিকে পাঁচ জঙ্গি আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সামরিক একাডেমির কাছে সেনাবাহিনীর একটি ফাঁড়িতে হামলা চালায়।

সব হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করার আগে তারা ১১ সৈন্যকে হত্যা ও ১৫ জনকে আহত করে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সম্প্রতি একের পর এক হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

তিনি বলেন, “যারা এ দেশের নয় এবং দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাদেরকে বুঝতে হবে যে, আমরা প্রতিটি রক্তকণার বদলা নেব।”

শহরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত মার্শাল ফাহিম সামরিক একাডেমির কাছে চালানো এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) । এ ঘটনায় চার হামলাকারী নিহত হওয়ার পর একজনকে আটক করেছে আফগান বাহিনী।

কাবুলের কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ অ্যাম্বুলেন্স বোমা হামলা চালিয়ে শতাধিক লোককে হত্যার দুই দিন পর এ হামলাটি চালানো হয়। সপ্তাহ খানেক আগে শহরটির ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জঙ্গিদের চালানো আরেক হামলায় আরো ২২ জন নিহত হয়েছিল। 

আগের দুটি হামলারই দায় স্বীকার করেছিল তালেবান।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচ জঙ্গি রকেট চালিত গ্রেনেড ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে সুরক্ষিত ওই একাডেমির কাছে ফাঁড়িটিতে হামলা চালায়।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “আফগান জাতীয় সেনাবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং তারা জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছে।” 

ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফাঁড়ির দেয়াল টপকানোর জন্য জঙ্গিরা একটি মই ব্যবহার করেছে।

এর আগে গত বুধবার জালালাবাদে সেভ দ্য চিলড্রেনের দপ্তরে চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। ওই হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছিল। 

এইসব হামলার কারণে চাপে পড়তে পারেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও তার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা।

নতুন একটি আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশলের কারণে তালেবান বিদ্রোহীরা অধিকাংশ প্রদেশের রাজধানী থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করে আসছিল এই পক্ষদুটি।

আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে দেওয়া সহযোগিতা বাড়িয়ে তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে অচলাবস্থার অবসান ও বিদ্রোহীদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে এ কৌশল নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন কৌশলে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে এমন দাবি অস্বীকার করেছিল তালেবান; আর গত নয় দিনের হামলা দেখিয়ে দিল প্রাণঘাতী, হাই-প্রোফাইল হামলা চালাতে এখনও সক্ষম দেশটির জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। এমনকি অত্যন্ত সুরক্ষিত কাবুলের কেন্দ্রস্থলেও হামলা চালাতে পারে তারা।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সম্প্রতি একের পর এক হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

তিনি বলেন, “যারা এ দেশের নয় এবং দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাদেরকে বুঝতে হবে যে, আমরা প্রতিটি রক্তকণার বদলা নেব।”

এক সংবাদ সম্মেলনে ঘানি বলেন, বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি পেতে তালেবান বিদ্রোহীরা সহিংস তৎপরতা চালাচ্ছে।

রাজধানী কাবুল ও অন্যান্য স্থানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘটা একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার বেশিরভাগেরই দায় স্বীকার করেছে তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠী। এসব হামলায় প্রায় ২শ’ জন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়েছে।

Comments

comments