একাত্তরে কর্মরত বাহিনীর সদস্যরাও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন


 প্রতিবেদক :

একাত্তরে সশন্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সীমন্তরক্ষা বাহিনীর যে সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই ভাতা চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীদের জন্য আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়সহ ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীর হাতে সম্মানি চেক, শাল, মোবাইল ট্যাব উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন।
২০১৬-২০১৭ সালের শান্তি, ২০১৬-২০১৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক ও অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত মোট ২৬ জন সদস্যকে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যারা কর্মরত ছিলেন, চাকুরি করার কারণে তাদের তখন ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের বেশির ভাগই, প্রায় সবাই এখন অবসরে। তাদের পরিবার আছে, অনেকে কষ্টে আছেন।
বাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ গ্রহণ করেছিলেন তাদের এবং তাদের পরিবারকে ভাতা দেব। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের ভাতা দেওয়া হবে।
ভাতা বৃদ্ধি, চাকরিতে কোটাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, অবদান রেখেছেন আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে তাদের সম্মানিত করার চেষ্টা করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা একটি দেশ, একটি জাতি গঠনের জন্য কাজ করেছেন তাদের অনুভূতি থাকে। আর যারা উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের কোনো দেশ-জাতির প্রতি কোনো দরদ থাকে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস ঠিক তার স্থান করে নেয়। এটা আরেকবার প্রমাণ হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর। সে সময় দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। তিনি আরও সময় পেলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলোর চেষ্টা করেছিল। সেই ৭ মার্চের ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস নিজেই তার অবস্থান করে নেয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments