মার্কিন সিনেটে বিল, অবরোধ হলে মিয়ানমারের পরিস্থিতি খারাপ হবে: সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার অংশের প্রধান অং সান সু চি বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর প্রস্তাবিত মার্কিন অবরোধ দেশটির বিকাশমান গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করবে। শুক্রবার সু চির মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব এশিয়া সফরের একদিন আগে দেশটির সিনেট সদস্যরা ওই প্রস্তাবিত বিলটি উত্থাপন করেন। তবে গত বছর মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর দেশটির ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল মার্কিন সরকার। এ অবরোধের আওতায় মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা এবং সেনা সহায়তা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ের কথা বলা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের জবাবে সু চির মুখপাত্র জ হতয়ে বলেন, আমাদের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সরাসরি আন্তর্জাতিক অবরোধ মিয়ানমারে ভ্রমণ ও বিনিয়োগের জন্য বাধা, যা আমাদের জন্য খারাপ হবে। তিনি আরো বলেছেন, আগামী ১৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরে রাখাইন সম্পর্কে তার কাছে দেশটির সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

আমরা কী করছি সেটা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বুঝিয়ে বলব। অবরোধের বিষয়ে তো আর কিছু বলতে পারব না। কারণ আমরা মার্কিন নীতি সম্পর্কে কিছু জানি না । জ হতয়ে আরো বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র আনয়নে দেশটির সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, জ হতয়ে নিজেও একজন সাবেক আর্মি মেজর।

এর আগে দেশটির মিলিটারি জান্তার সময় অং সান সু চির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে জ হতয়ে জোর দিয়েই বলেছেন, দেশটির গণতন্ত্রের উন্নয়নে সেনা সরকারকে নিয়েই কাজ করে যেতে হবে বেসামরিক সরকারকে।
প্রস্তাবিত ওই বিলটিতে সমর্থন জানানোদের মধ্যে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাকেইন ও ডেমোক্রেট সিনেটর বেন কার্ডিন। 
এদিকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদেও ওই বিলের সঙ্গে মিল রেখে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন রাখাইনে সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’হিসেবে আখ্যা দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। তবে মিয়ানমার বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, গেলো ২৫ আগস্ট ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পরই সেনাবাহিনী রাখাইনে অভিযান শুরু করেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলছে, রাখাইনে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

Comments

comments