মাদকাসক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি

প্রতিবেদক:

দেশের মাদকাসক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা গ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অর্ধেকের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫৬ শতাংশই ইয়াবা গ্রহণ করে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নারী মাদকাসক্তদের উপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ধানমণ্ডিতে আহছানিয়া মিশনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।  

মিশনের ‘নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা ৯৫ জন নারীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে ঘুমের ঔষধ সেবন করে ৩৩ শতাংশ, সিগারেট ৩২ শতাংশ, মদ ২৮ শতাংশ, গাঁজা ২৬ শতাংশ, ফেনসিডিল ৯ শতাংশ, হেরোইন ৫ শতাংশ, পেথেড্রিন ৩ শতাংশ এবং ১ শতাংশ নারী ড্যান্ডি গ্রহণ করে।  

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও আহছানিয়া মিশনের সিনিয়র কাউন্সিলর মো. আমির হোসেন জানান, জরিপে অংশ নেয়া মাদকাসক্তের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ১৬ শতাংশের স্বামী ও ভাই, ৪ শতাংশের বোন, ৪ শতাংশের বাবা ও ২ শতাংশের মা মাদকাসক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ৩৪ শতাংশ নারী তাদের বন্ধু-বান্ধব বা সঙ্গী দ্বারা মাদক গ্রহণে প্ররোচিত হয়েছে। কৌতুহলের বশে ৪৩ শতাংশ, মানসিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত সমস্যার ফলে বিষণ্নতার কারণে ৩৪ শতাংশ, রাগ ও জিদের কারণে ১৩ শতাংশ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৪ শতাংশ, দারিদ্র্যতার কারণে ৮ শতাংশ, স্বামী বা স্ত্রী দ্বারা জোরপূর্বক ৫ শতাংশ মাদক নির্ভরশীল হচ্ছে।  

জরিপে বলা হয়, ৩৪ শতাংশ নারীর একাধিক যৌন সঙ্গী আছে এবং ৪৪ শতাংশের অনিরাপদ যৌন অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের ১১ শতাংশ মাদক সংক্রান্ত মামলায় জড়িত। মাদক নির্ভরতার ফলে মেজাজের বৈকল্য, সিজোফ্রেনিয়া, ব্যক্তিত্বের বৈকল্য ও নিদ্রা জনিত রোগে ভুগছেন ৩৩ শতাংশ, কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যায় ৩২ শতাংশ, অ্যাজমা জনিত সমস্যায় ৩ শতাংশ, ঘা-ফোঁড়া জনিত সমস্যায় ১ শতাংশ, মাসিক সমস্যায় ৯ শতাংশ, দাঁত ব্যথা জনিত সমস্যায় ২৩ শতাংশ ভুগছেন।

পারিবারিক সমস্যা দেখা যায় ৪৯ শতাংশ, বৈবাহিক সমস্যা ৩৪ শতাংশ এবং ৬১ শতাংশ মাদক নির্ভরশীল নারী বিবাহের পূর্বে যৌন সম্পর্কিত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন ও কমিউনিকেবল ডিজিজ যেমন জ্বর, হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত ৫৬ শতাংশ।  
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হেলথ সেক্টরের প্রধান ইকবাল মাসুদ জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ‘নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত ২৫০ জন মাদকাসক্ত নারীকে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ৭৫ শতাংশ নারী আবারো মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এবং এখানে ফিরে এসে চিকিৎসা নিয়েছে।  

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের চিকিৎসক ইশরাত শারমীন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামাল আহমেদ চৌধুরী, আহছানিয়া মিশনের নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সিলর শারমিন আবেদীন ইরা বক্তব্য রাখেন।
নারীর মাদক গ্রহণের ভয়াবহতা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি, গর্ভবতী নারীর মাদক গ্রহণের ফলে সময়ের আগে সন্তান ডেলিভারী ও মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে মাদকের প্রভাব পড়ার ফলে শারীরিক বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।  

নারী ও শিশুদের মাদকাসক্তি রোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বক্তারা জোর দেন।

 

Comments

comments