নীলফামারী ৩ আসনে আওয়ামীলীগে ছয়জন: জোটের জটে বিএনপি-জামায়াত


নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ 
নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৩ আসন এবং এটি জাতীয় সংসদের ১৪ নম্বর আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতারা মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ করছেন।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগে অন্তত ছয় জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এতে দলের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটি বিএনপির সঙ্গে জোটের কারণে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, এখানে দলের সাংগঠনিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। স্থানীয় নির্বাচনেও দল ভালো করেছে। সে কারণে এবার দলের প্রার্থী চাইবেন তাঁরা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টিতেও মনোনয়নপ্রত্যাশী দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাবেক সংসদ সদস্য।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন এমন একজনের নামও শোনা যাচ্ছে, যিনি জামায়াত সমর্থিত।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে: নীলফামারী-৩ আসনে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ সাত হাজার ৯৫৮। কিশোরীগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে ৫৩ হাজার ৪৮৮ ভোট। এই আসনে মোট দুই লাখ ৬১ হাজার ৪৪৬ ভোটারের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩১ হাজার ১৫ এবং নারী এক লাখ ৩০ হাজার ৪৩১ জন। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা।
এ আসনে হয়ে যাওয়া ১০টি নির্বাচনের বেশির ভাগই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও মুসলিম লীগের প্রার্থী। সারা দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের যে কয়েকটি শক্ত অবস্থান রয়েছে, এর মধ্যে নীলফামারী-৩ আসন অন্যতম।
আগের নির্বাচনগুলোর ফল অনুযায়ী, এককভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ১ম, ৫ম ও ১০ম নির্বাচনে জয়ী হন। নবম সংসদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ৪র্থ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়। স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ ২য়, জামায়াত ৩য়, ৭ম ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী যাঁরা : বর্তমান সংসদ সদস্য  উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, উপজেলার গোলনা ইউনিয়ন পরিষদের দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির ও উনসত্তরের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা এ কে এম শহীদুল ইসলাম মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। 
বিএনপি : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) শিল্পপতি মো. সামসুজ্জামান। 
জামায়াত : জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। 
জাতীয় পার্টি : সাবেক সংসদ সদস্য ও মুসলিম লীগ নেতা কাজী আব্দুল কাদেরের ছেলে কাজী ফারুক কাদেও, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব সাজ্জাদ পারভেজ ও মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র : জামায়াতের জামায়াতের সহযোগী সদস্য দুবারের নির্বাচিত জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সৈয়দ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মাঠে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁর শুভেচ্ছাসংবলিত পোস্টার নির্বাচনী এলাকার সবখানে লাগানো হয়েছে।

সাথে ছবি আছে

নীলফামারীতে ৮৩৬ পুজা মন্ডব প্রস্তুত
 নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ 
নীলফামারীতে শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পুরোদমে চলছে প্রতিমা ও পুজা মন্ডব তৈরীর কাজ। এবার জেলায় ৮৩৬টি মন্ডবে পুজা অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে।
এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ২৭৫টি, ডিমলায় ৮০টি, ডোমারে ৯২টি,জলঢাকায় ১৬৫টি, কিশোরগঞ্জে ১৪০টি, সৈয়দপুরে ৮৪টি পুজা মন্ডব রয়েছে। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন, এ অঞ্চলের প্রতিমা শিল্পীরা। 
জানা যায়, কাঁদা মাটি,খড়,কাঠ,দড়ি আর বাঁশ নিয়ে দিন কাটছে তাদের। প্রতিমার প্রত্যেকটি অনুষঙ্গ নিখুঁত ভাবে ফ্ুঁটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ প্রতিমা শিল্পীদের।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্টি পুজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাম্বলীদের এ মহোৎসব শুরু হতে চাচ্ছে। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেমবর পর্যন্ত।  
রংপুর বিভাগীয় হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাড. রথিস চন্দ্র ভৌমিক ও জেলা পুজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. অক্ষয় কুমার রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবার জেলায় ৮৩৬ টি মন্ডবে পুজা অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠিপুজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে, ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ২৮ সেপ্টেম্বর অষ্ঠমী, ২৯ সেপ্টেম্বর নবমী, ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনে শেষ হবে পাঁচদিনের দুর্গোৎসব।
জেলা শহরের হাড়োয়া দেবির ডাঙ্গা মন্দিরের সভাপতি নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, গতবারের চেয়ে এবারের পুজা জাঁকজমকভাবে উৎযাপন করা হবে। এ ব্যাপারে সকল প্রস্ততি শেষ সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান বলেন, এ বছর শারদীয় দুর্গা পুজায়, সরকারের পক্ষ থেকে ৪১৮ মেট্রিকটন চাল (জি আর) বরাদ্দ পাওয়া গিয়াছে। এর মধ্যে ডোমারে ৪৬ দশমিক ৫মেট্রিকটন, ডিমলায় ৩৮ দশমিক ৫ মেট্রিকটন, জলঢাকায় ৮২ মেট্রিকটন, কিশোরগঞ্জে ৭২ মেট্রিকটন,  সৈয়দপুরে ৪০ মেট্রিকটন, নীলফামারী সদরে ১৩৯ মেট্রিকটন। 
এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ইউপি চেয়ারম্যানগন পুজা মন্ডবে অনুদান প্রদান করবে বলে জানান তিনি। এদিকে, নীলফামারী পৌরসভার হাড়োয়া মহল্লার দেবির ডাঙ্গা মন্দির, মিলন পল্লী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, শিব মন্দির, বড় বাজার হাড়োয়া পুজা মন্ডব, কালিতলা পুজা মন্ডব, ডাইল পট্টি পুজা মন্ডব, সদরের বাহালী পাড়া জমিদার বাড়ী পুজা মন্ডবে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে পুরোদমে।
এ ব্যপারে মিলন পল্লী সার্বজনীন দুর্গা মন্ডবের পুরোহিত মিন্টু কুমার ভট্টাচার্য বলেন, শ্রাবনের ২৫ তারিখ থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন। কাজ প্রায় শেষ। এখন কেবল প্রতিমা গুলোর নকশা করা হচ্ছে। আর অল্পদিনের মধ্যেই প্রতিমা গুলোতে রং লাগিয়ে সুসজ্জিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে শারদীয় দুর্গাৎসব উৎযাপনের লক্ষে জেলায় এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যলায় থেকে থানা পর্যায়ে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। 
এ ব্যাপারে, নীলফামারী পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খাঁন জানান, এ বছর হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত সব উপজেলার কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে আইন শৃঙ্গলা রক্ষায় গত ২০ সেপ্টেম্বর এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়েছে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি (ডিবি) শাহজাহান পাশা জানান, প্রতি বছরের ন্যয় এবারো শারদীয় দুর্গাৎসব উপলক্ষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

নীলফামারীতে লাগানো হচ্ছে ৫০ হাজার তালগাছ
 নীলফামারী প্রতিনিধি ॥ 
নীলফামারীতে ৫০ হাজার তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর। প্রশাসনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে এ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সেখানে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশিদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর সূত্র জানায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারাদেশে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। কর্মসূচির আলোকে নীলফামারী জেলাতেও রোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে গ্রামীণ সড়কের দুই ধারে তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে। কাজের বিনিময়ে টাকা কর্মসূচির (কাবিটা) মাধ্যমে পুনরায় নির্মিত ও সংস্কারকৃত রাস্তার দুই ধারে দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়ক এই গাছের চারা লাগানো হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নীলফামারী জেলার ৬০টি ইউনিয়নে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে ৮৩৩টি করে তালগাছ লাগানো হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ গাছ তদারক করবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে সারাদেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে রোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

 

 

Comments

comments