ব্রেকিং নিউজ

সারাদেশে জমজমাট পশুর হাট: দাম কম থাকায় ক্রেতারা খুশি

প্রতিবেদক:

আর একদিন পরেই ঈদুল আজহা। জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। গত কয়েক দিন তেমন বিক্রি না হলেও আজ বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। তবে পশু বেশি বিক্রি হলেও হাসি নেই বিক্রেতাদের মুখে। বেশিরভাগ বিক্রেতাই বলছেন, এ বছর তাদের কম দামে পশু বিক্রি করতে হচ্ছে।

অপরদিকে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। পশু কেনার পর তারা হাসি মুখে বাসায় ফিরছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাটে যাওয়ার পথে মনে হচ্ছিল, রাস্তায় যেন গরু নিয়ে র‌্যালি হচ্ছে। কেউ ট্রাকে করে, কেউ পিকআপে, কেউ ভ্যানে, আবার কয়েকজন মিলে রশি ধরে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন আকারের গরু। জরি ও মালা দিয়ে গরুগুলো বেশ ভালোভাবে সাজানো রয়েছে।

আফতাবনগর পশুর হাটে প্রবেশ করে দেখা যায় জনস্রোত। কেউ পশু দেখছেন, কেউ বিক্রি করছেন, আর কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বেশি দরদাম করতে হচ্ছে না।

পশুর হাটে প্রবেশের পথে বা দুই পাশে মোটামুটি বড় আকারের গরু রয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তি আসেন। বিক্রেতা মঈনুলের কাছে দাম জানতে চান। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম চান। ক্রেতা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দাম দিতে চাইলে মঈনুল গরু বিক্রি করেন।

মঈনুল এসেছেন নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে। তিনি বলেন, ১০টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। ৯টি বিক্রি করেছি। প্রতিটা গরুই লোকসানে বিক্রি করেছি। এ বছর ক্রেতারা বেশি দাম বলছেন না। যদি বিক্রি করতে না পারি আবার ১ বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাই বিক্রি করে দিচ্ছি।

গুরুদাসপুর থেকে আসা মো. সাইদুল ইসলাম একটি গরু দেখিয়ে বলেন, এই গরুটা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম বলতেছে। গরুটার দাম চাচ্ছি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আমি ১০টা গরু এনেছিলাম। এর মধ্যে সাতটি গরু ৭০ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করেছি। এ বছর এমন হবে বুঝতেই পারিনি। কথাগুলো বলতে বলতে তার মুখটা বিষণ্ন হয়ে ওঠে। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

পাশ ঘরগুলোতে দায়িত্বরতদের যেন দম ফেলার সময় নেই। তাদের খুব ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে। পাশ ঘরে দায়িত্বরত একজন বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকে বিক্রি অনেক বেশি। আমরাও আজ হিমশিম খাচ্ছি। কথা বলার সময়ও পাচ্ছি না।

শুধু গরু ব্যবসায়ী নয়, যারা ছাগল নিয়ে এসেছেন, তাদেরও অনেকে চালান তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গোপালগঞ্জ থেকে আসা ইউসুফ শেখ জানান, তিনি ২১টি ছাগল নিয়ে এসেছেন। তার মধ্যে কেনা দামে ৮টি বিক্রি করেছেন।

পশুর হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার দেখা গেছে। বাড্ডা থানার পরিদর্শক মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা চারদিকে নজরদারি করছি। সবাই স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন।

অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের ব্যাপারে পাশ ঘর থেকে মাইকে বারবার সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

হাটের বাইরে বসেছে পশুখাদ্যের দোকান। সেখানে হোগলা, খড়, ঘাস, ভুসি, রশি ও মাংস কাটার জন্য গাছের গুড়ি বিক্রি করা হচ্ছে। রশি ৫০ টাকা, হোগলা ১৫০, খড়ের আটি ১০, ঘাসের আটি ২০, ভূসির কেজি ৪০ টাকা ও গাছের গুড়ি আকার হিসেবে বিক্রি করছেন বলে জানান বিক্রেতা নূর আমিন। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। যারা পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, তারা সাথে পশুর খাবারও নিয়ে যাচ্ছেন। মাংস রাখার জন্য হোগলা ও মাংস কাটার জন্য গাছের গুড়িও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

Comments

comments