ব্রেকিং নিউজ

রানা প্লাজার মালিক সোহেলের ৩ বছর কারাদণ্ড

প্রতিবেদক :

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় প্রদান করেন। তিন বছর কারাদণ্ড ছাড়াও তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণাকালে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় সোহেল রানাকে।

এদিকে এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুদকের আইনজীবী এম এ সালাউদ্দিন ইস্কান্দার কিং।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রানার আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন, রায়ে ন্যায় বিচার পায়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এ সাজা হয়েছে। কারণ কারা কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারির পর রানাকে তার পরিবার বা আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেয়নি। দেখা করতে না দেওয়ার কারণে তিনি জবাব দাখিল করতে পারেননি। আর এ কারণেই তার সাজা হলো।

এর আগে গত ২২ আগস্ট মামলার যুক্তি-তর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন আদালত। মামলার বিচারকাজ চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা তার নিজের, স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে অর্জিত স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ ও সম্পত্তি, দায় দেনা, উৎস এবং তার অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিলের জন্য ২০১৩ সালের ২২ মে বিবরণী নোটিশ ইস্যু করে দুদক। এর আগে থেকেই রানা কাশিমপুর কারাগারে থাকায় তার নামে সম্পদবিবরণী নোটিশ জারি করা হয়নি। পরবর্তীতে কারাগারে নোটিশ ইস্যু করার সিদ্ধান্ত হয়।

দুদক ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল রানার নামে কাশিমপুর কারাগারে সম্পদবিবরণী নোটিশ জারি করে। ওই বছর ২ এপ্রিল জেল সুপারের মাধ্যমে নোটিশটি সোহেল রানার কাছে পৌঁছায়।

২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সোহেল রানা  সম্পদবিবরণী ফরম পূরণ না করে তা দুদকের কাছে ফেরত পাঠায়। কিন্তু ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল নিজ স্বাক্ষরে বিবরণী নোটিশ গ্রহণ করে রানা। কিন্তু নোটিশের বিধি মোতাবেক সাত কার্যদিবসের মধ্যে রানা সম্পদবিবরণী দাখিল করেনি। ওই অভিযোগে একই বছর ২ মে দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম রমনা থানায় সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগ এনে রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম আদালতে রানার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

Comments

comments