ব্রেকিং নিউজ

‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে উগ্রপন্থা শক্তিশালী হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন প্যানেল জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যধিক বিধিনিষেধ ও বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। এই সমস্যার সমাধান করা না হলে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকবে।

 
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমরা সামরিক জান্তার আমলে ব্যাপক নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু কির এনএলডি ক্ষমতা গ্রহণের পরে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদে সংকটাপন্ন রাখাইন প্রদেশের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্দেশ্যে গত বছর কফি আনান কমিশন গঠন করে। বৃহস্পতিবার অং সান সু কি ও মিন অং লাইংয়ের কাছে কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কফি আনান।
 
গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা ৯ জন পুলিশকে হত্যার পরে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর খড়গ নেমে আসে। রোহিঙ্গা বসতিতে অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের প্রেক্ষিতে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। চলতি মাসে রাথেটাউংয়ে সেনাবাহিনীর নতুন ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
৯ সদস্য বিশিষ্ট কফি আনান কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও মিয়ানমারের নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তারপরেও উচ্চমাত্রার সামরিক প্রতিক্রিয়া কখনো এই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। যে পদক্ষেপই নেয়া হোক না কেন এটা যেন নিশ্চিত করা হয় যে সাধারণ মানুষের যেন ভুগতে না হয়, তাদের যেন প্রয়োজনীয় মানবিক চাহিদাগুলো পূরণের সুযোগ দেয়া হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তঃ-সম্প্রদায় সহিংসতা যেন বৃদ্ধি না পায় সেজন্য পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
 
যদি মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে রোহিঙ্গারা উগ্রপন্থায় ঝুকে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে আছে, আর এর ফলে রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চল উগ্রপন্থার উর্বরভূমিতে পরিণত হতে পারে।
 
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করেনি মিয়ানমার এবং দেশের মধ্যে চলাফেরার মধ্যে তাদের অনেক বাধানিষেধ মেনে চলতে হয়। প্রায়ই তাদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয়। কফি আনান কমিশন গঠনের পরে সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব তিনবার মিয়ানমার সফর করেছেন যার মধ্যে দুইবার রাখাইন প্রদেশে গেছেন।
 
গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অভিযান পরিচালনা করেছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও সম্প্রদায় নিশ্চিহ্নকরণ অপরাধের সমতুল্য। এরপরে মার্চে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন গঠন করা হয়। মিয়ানমারের তদন্ত দল জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে অভিযোগ অস্বীকার করে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ভিসা বাতিল করলেও মিয়ানমার সরকার বলে, তারা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ মেনে নেবে। 
 
কিন্তু আনান প্যানেল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছাড়াও, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সহ আরো বেশকিছু বিষয় নিয়ে কাজ করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আনান কমিশন নির্দিষ্ট কোনো অভিযুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করবে না। মিয়ানমার সরকারের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের হোতাদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। রয়টার্স।

Comments

comments