ব্রেকিং নিউজ

ব্রিকসের নতুন সদস্য হতে যাচ্ছে পাকিস্হান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘদিনের কুটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের পর অবশেষে পাকিস্হান বিশ্বের গুরুত্তপূর্ণ একটি সংস্হায় সদস্যপদ পেতে যাচ্ছে।ভারত বাদে ব্রিকসের অন্য সকল সদস্য চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থন পেয়ে পাকিস্তান ব্রিকস-প্লাসে প্রবেশ করতে পারে। ব্রিকসে পাকিস্হানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভারতের অসন্তোষ প্রথম থেকেই দেখা যায়।চিরবৈরী পাকিস্হানের সদস্যপদ প্রাপ্তি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা ভারত।

আর সে কারনেই আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর চীনে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসছে।

ব্রিকসের প্রতি ভারতের বৈরিতার সূচনা হয়েছে এই বাস্তবতা থেকে যে, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থন পেয়ে পাকিস্তান ব্রিকস-প্লাসে প্রবেশ করতে পারে।

কিন্তু পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করার কোনো ভিত্তিই নেই। মাত্র দুই মাস আগে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গ্যানাইজেশনে (এসসিও) এসসিও-প্লাস হিসেবে পাকিস্তান প্রবেশ করেছে। কেবল পাকিস্তান নয় ভারতও নতুন সদস্য হিসেবে আস্তানা সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। ‘বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানকে নিঃসঙ’ করার মোদি সরকারের দাবিই এতে ফাঁকা বুলিতে পরিণত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ওআরএফ চেয়ারম্যান সুধীন্দ্র  কুলকার্নি বিদ্রুপ করেছেন।

 চীনা বা ভারতীয় মুখপাত্রের কেউই মোদির যোগদান নিশ্চিত করেননি। মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চীনা মুখপাত্র হুয়া চুনিইঙ অবশ্য বলেছেন, শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের যোগদান চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আর ভারতের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেছেন, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

অবশ্য, মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ ছাড়াই চীনা মুখপাত্র হুয়া আবারো চীনা অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছেন, ভারতকে অবশ্যই দোকলাম থেকে নিঃশর্তভাবে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, ওই বিরোধ নিষ্পত্তির পূর্বশর্তই হলো এটা।

আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর উপকূলীয় নগরী জিয়ামেনে উদীয়মান পাঁচটি দেশকে (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া ও সাউথ আফ্রিকা- ব্রিকস) নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনটি হবে।

সম্প্রতি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) চেয়ারম্যান সুধীন্দ্র কুলকার্নি কুইন্টে এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনে না গিয়ে জুনিয়র কাউকে পাঠাতে পারেন। কিংবা ভারত পুরোপুরি শীর্ষ সম্মেলন বয়কটও করতে পারে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙ যখন ব্রিকস-প্লাস নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, তখনই মোদিকে বাদ দিয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াঙ ইয়িও ব্রিকস-প্লাস আইডিয়া পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, চীন অন্যান্য উদীয়মান প্রধান দেশের সাথে সংলাপ চালিয়েছে, ব্রিকসকে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে তৈরি করার জন্য তাদেরকে ব্রিকসমুখী করার জন্য ব্যাপক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

ভারত মনে হচ্ছে ব্রিকসের ভবিষ্যত নিয়ে তেমন আশাবাদী নয়। কুলকার্নি বলেন, ভারতের নেতা এবং প্রভাবশালী কৌশল বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমান হারে মনে করছেন, ব্রিকস হয়ে পড়ছে চীন-কেন্দ্রিক এবং চীনা-প্রাধান্যপূর্ণ প্লাটফর্ম। অধিকন্তু, তারা ব্রিকস-প্লাসকে ক্ষতিকর মনে করছে। কারণ রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থন নিয়ে নতুন যেসব সদস্যকে চীন এতে সামিল করতে চায়, তার মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম।

Comments

comments